জাতিসংঘে মানবাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের আহ্বান বাংলাদেশের

প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘে মানবাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের আহ্বান বাংলাদেশের

অনলাইন ডেস্কঃ অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণ ও বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে মানবাধিকারকে স্থান দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। দেশের কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির তথাকথিত পরিসংখ্যান নয়, বরং সাধারণ মানুষের সমতা, মানবিক মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে কতটা ভূমিকা রাখা যাচ্ছে—তার ভিত্তিতেই প্রকৃত উন্নয়ন অগ্রগতি মূল্যায়ন করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে ঢাকা।

গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘দ্য পলিটিক্যাল ইকোনমি অব হিউম্যান রাইটস’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের সংলাপে বক্তৃতাকালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন খান এই গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান। আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকায় প্রেরিত এক সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বক্তৃতায় রাষ্ট্রদূত আইরিন খান বলেন, যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি যাতে সরাসরি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি ন্যায়সংগত করব্যবস্থা, সাশ্রয়ী উন্নয়ন অর্থায়ন, ঋণের স্থায়ী টেকসই সমাধান এবং বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর জরুরি সংস্কার প্রয়োজন।

উক্ত সংলাপে অংশ নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান বা হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক বলেন, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ক্রমবর্ধমান কেন্দ্রীভবন, অস্বাভাবিক সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি, দিন দিন ঋণের বোঝা বেড়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন স্তরে বৈষম্য বিস্তারের কারণে সরাসরি সাধারণ মানুষের মানবাধিকার চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশ, মরক্কো, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং উরুগুয়ের স্থায়ী মিশনের যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই সংলাপে রাষ্ট্রদূতদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ইগনাসিও সাইস, অধ্যাপক সাকিকো ফুকুদা-পার ও জাতিসংঘের স্বাধীন বিশেষজ্ঞ আতিয়া ওয়ারিস অংশ নেন। বক্তারা সংঘাত কাটিয়ে উঠতে এবং ২০৩০ পরবর্তী টেকসই বৈশ্বিক উন্নয়ন কাঠামো অর্জনে আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কারে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সকালবেলা / নুসরাত