ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগ, সেই এসআইকেই পুরস্কৃত করলেন কক্সবাজারের এসপি
ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন, কক্সবাজার ; প্রায় এক লাখ পিস ইয়াবা আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত বালুখালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই গোলাম কিবরিিয়াকে নিয়ে যখন পুরো জেলাজুড়ে তোলপাড় চলছে, ঠিক সেই দিনই প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে উখিয়া থানায় গিয়ে অভিযুক্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তার হাতে নগদ অর্থ পুরস্কার তুলে দিয়েছেন কক্সবাজারের বিতর্কিত পুলিশ সুপার (এসপি) এ এন এম সাজেদুর রহমান। গত রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ইয়াবা আত্মসাতের এই গুরুতর অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অথচ কাকতালীয়ভাবে বা সচেতনভাবে একই দিনে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করায় গোটা পুলিশ বিভাগের পেশাদারিত্ব ও ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে উল্টো পুরস্কার প্রদান করার এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন।
সাধারণত পুলিশের প্রচলিত দাপ্তরিক রীতি অনুযায়ী, মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সর্বোচ্চ মাদক, অস্ত্র উদ্ধার এবং নানামুখী ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ জেলার বিভিন্ন পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়ে থাকে। কিন্তু সেই সুনির্দিষ্ট ও প্রতিষ্ঠিত রীতির সম্পূর্ণ বাইরে গিয়ে গণমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশের দিনই উখিয়া থানায় সশরীরে হাজির হয়ে এসআই কিবরিিয়ার হাতে নিজে পুরস্কারের অর্থ তুলে দেন এসপি সাজেদুর রহমান। শুধু তাই নয়, একই বিতর্কিত ঘটনায় উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-কেও নগদ অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২২ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ছৈয়দুল বশর ওরফে সিসি বশর নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। ওই বিশেষ অভিযানে এসআই গোলাম কিবরিিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সরাসরি অংশ নেয়।
তবে মামলার বাদী ও ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শী সরওয়ার সিকদারের সুনির্দিষ্ট দাবি অনুযায়ী, ওই অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোট দেড় লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এসআই কিবরিিয়া নিজে বাদী হয়ে উখিয়া থানায় যে মামলার এজাহার দায়ের করেছেন, তাতে মাত্র ৫০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি প্রায় এক লাখ পিস ইয়াবা কৌশলে সরিয়ে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এসআই কিবরিিয়ার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী সরওয়ারের আরও অভিযোগ, আত্মসাৎকৃত সেই ইয়াবা পরবর্তীতে গোপন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারিদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
সরওয়ারের ভাষ্যমতে, আটককৃত ব্যক্তিকে প্রথমে বালুখালী পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে সেখান থেকে উখিয়া থানায় স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে বালুখালীর জোড়াব্রিজ এলাকায় মাত্র ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের সাজানো নাটক বা ঘটনা দেখানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এদিকে মামলার এজাহারে সাক্ষী হিসেবে নাম থাকা দেলোয়ার ও সাদ্দাম নামের দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন, সেদিন পুলিশের মূল অভিযান ও ইয়াবা উদ্ধারের প্রকৃত ঘটনার বিষয়ে তারা আদ্যোপান্ত কিছুই জানেন না। এমনকি মামলার নথিতে সাক্ষী হিসেবে তাদের নাম কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হলো, সে বিষয়েও তারা সম্পূর্ণ অজ্ঞ বলে দাবি করেছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, ওই এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ এখনো সুরক্ষিত ও সংরক্ষিত রয়েছে। তাদের মতে, সিসিটিভি ফুটেজ, পুলিশি জব্দতালিকা, মামলার মূল নথিপত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা হলে উদ্ধারকৃত ইয়াবার প্রকৃত ও আসল পরিমাণ সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে।
পুলিশের অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র জানিয়েছে, ২২ অক্টোবর ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার ও এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তারের স্বীকৃতিস্বরূপই মূলত এসআই কিবরিিয়া ও ওসিকে এই নগদ পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। তবে একই অভিযানে এক লাখ পিস ইয়াবা আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে এভাবে প্রকাশ্যে পুরস্কৃত করার আকস্মিক সিদ্ধান্ত নিয়ে জেলা পুলিশজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আক্ষেপ করে বলেন, “এসপি স্যার যে এমন একটি ভুল ও হঠকারী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা আমরা নিজেরাও বুঝতে পারিনি।”
ইয়াবা আত্মসাতের এই অভিযোগের সত্যতা ও গভীরতা এখনো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্তসাপেক্ষ। তবে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের দিনই অভিযুক্ত এসআইকে পুরস্কৃত করার ঘটনা পুলিশ বাহিনীর ভেতরের সুশাসন নিয়ে নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। দ্রুত এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, উদ্ধারকৃত ইয়াবার প্রকৃত পরিমাণ উদঘাটন এবং এই ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, এসপি সাজেদুর রহমান কক্সবাজার জেলায় যোগদানের পর থেকেই এখানকার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে নাজুক ও অবনতিশীল হয়ে পড়েছে। অতীতে দিনদুপুরে ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে दुসাহসিক গণডাকাতির ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে একসঙ্গে অর্ধশত যানবাহন ও যাত্রীদের সর্বস্ব লুট করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, খোদ পুলিশ সুপারের সরকারি কার্যালয়ের ঠিক সামনেই ইয়াবার একটি বিশাল গুদাম বা আস্তানার সন্ধান মিলেছিল। সম্প্রতি সেই গোপন গুদাম থেকে তিন লাখ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারিকে আটক করেছিল পুলিশ। কিন্তু ওই অভিযানের সময়ও সেখান থেকে প্রায় দুই লাখ পিস ইয়াবা রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে পুরো কক্সবাজার জেলাজুড়ে চরম তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল।
অভিযোগ রয়েছে, ইয়াবা গায়েবকারী প্রকৃত চক্রকে খুঁজে বের করতে বা তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নিতে এসপির কোনো কার্যকর সদিচ্ছা বা আগ্রহ দেখা যায়নি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জেলার আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
পুলিশের একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র দাবি করেছে, যোগদানের পর থেকে নানা অপকর্মে লিপ্ত ও বিতর্কিত কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য শাস্তির বদলে নানাভাবে আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিয়ে আসছেন বর্তমান পুলিশ সুপার। যার সর্বশেষ ও জলন্ত প্রমাণ হলো—১ লাখ পিস ইয়াবা আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত এসআই কিবরিিয়াকে নগদ পুরস্কারে ভূষিত করা।
এসপির কার্যকালে জেলায় খুন, ধর্ষণ, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের পাশাপাশি আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্য গোলাগুলি এবং খোদ বিচারককে অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয় দেখানোর মতো নজিরবিহীন ঘটনাও সংঘটিত হয়েছে। এসব রোমহর্ষক ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা, অভ্যন্তরীণ তদন্তের নিরপেক্ষতা এবং সার্বিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও আইনজীবীরা।
জেলা পুলিশের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত মাত্র সাত মাসের ব্যবধানে কক্সবাজারে মোট ৯৫টি খুনের ঘটনা, ১২৭টি ধর্ষণ এবং ২৯৭টি অপমৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে দেড় শতাধিক। পর্যটন জোনসহ গোটা জেলায় প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ৩০টি ছোট-বড় চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে অনেক ভুক্তভোগীর ঘটনা থানা পর্যন্ত গড়ায় না কিংবা মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় অপরাধের প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
গত ৩০ নভেম্বর আদালত প্রাঙ্গণে এক যুবক পিস্তল উঁচিয়ে একজন বিচারককে ভয় দেখান বলে অভিযোগ করেন জেলা জজ পদমর্যাদার একজন দায়িত্বশীল বিচারক। তাঁর ভাষ্যমতে, ঘটনার পর দুই বিচারক তৎকালীন সদর থানার তৎকালীন ওসি ছমিউদ্দীনকে ডেকে সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খ দেখে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। বিষয়টি সে সময় পুলিশ সুপারকেও আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর বা দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এরপর চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে একাধিক বিচারক নিরাপত্তার চরম শঙ্কা প্রকাশ করে পুলিশ সুপারের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে গানম্যান চেয়ে সুনির্দিষ্ট চিঠি দেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের কোনো নিরাপত্তারক্ষী তো দেওয়া হয়নিই, এমনকি সেই চিঠির কোনো দাপ্তরিক জবাব বা সৌজন্য পর্যন্ত জানানো হয়নি। এর মধ্যে গত ২৪ মে জেলা আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্য দিবালোকে গোলাগুলির ঘটনায় দুজন গুলিবিদ্ধসহ বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষ গুরুতর আহত হন।
গত ২৪ মার্চ রাতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত এলাকায় সুনির্দিষ্ট ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে খুন হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক খোরশেদ আলম। ওই হত্যাকাণ্ডের পরপরই তারিন নামের এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পুলিশ। তার ব্যাগ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি উদ্ধারের কথাও সে সময় প্রচার করা হয়। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, নিহত খোরশেদের জানাজা চলাকালেই এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত তারিনকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ও দায়মুক্ত ঘোষণা করেন এসপি। এতে তদন্ত প্রক্রিয়া পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ার আগেই পুলিশ প্রশাসন আগেভাগে কোনো বিশেষ সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছে কি না, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন ওঠে। নিহত খোরশেদের পরিবারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল, এর আগেও তারিন তাকে নানাভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে মামলার বাদী ও স্বজনরা পুলিশের এই পক্ষপাতদুষ্ট তদন্তের প্রতি সম্পূর্ণ অনাস্থা জানিয়ে আদালতের আদেশের মাধ্যমে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) স্থানান্তর করান। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মূল অভিযুক্ত তারিনকে চার্জশিট থেকে বাদ দিয়ে কেবল সাক্ষী করা হয়েছিল।
গত ২২ এপ্রিল খুরুশকুল এলাকার মন্দিরের সেবায়েত নয়ন সাধুকে নৃশংসভাবে হত্যার পর তার নিথর মরদেহ একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ওই চাঞ্চল্যকর ঘটনার ওপর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন সাংবাদিক অন্তর দে বিশাল। তাঁর গুরুতর অভিযোগ, প্রকাশিত সেই সংবাদ দ্রুত সরিয়ে না ফেললে তাঁকে একটি সাজানো হত্যা মামলায় আসামি করে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন স্বয়ং এসপির অত্যন্ত আস্থাভাজন ও ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এলআইসি (LIC) সদস্য সোহেল। অবশ্য সোহেল পরবর্তীতে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।
সাংবাদিক অন্তর দের দাবি, তিনি পুরো বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানানোর পর এসপি উল্টো তাঁকে প্রশ্ন করেন, “আপনাকে নিউজ করতে কে বলেছে?” পরবর্তীতে সাংবাদিকদের তীব্র প্রতিবাদ ও আন্দোলনের মুখে বাধ্য হয়ে সদর থানা একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ করে। পুলিশের এমন অপেশাদার আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিকদের পাশাপাশি স্থানীয় পূজা উদ্যাপন কমিটিও প্রকাশ্যে প্রতিবাদলিপি দেয়।
অন্যদিকে, ইয়াবা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগের তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে পুলিশ সুপারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে একটি জাতীয় দৈনিকের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শাহেদ ফেরদৌস হিরুকে এসপি সম্পূর্ণ উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দেন—“ইয়াবা নিয়ে সাংবাদিকদের এত মাথাব্যথা ও আগ্রহ কেন?” সাংবাদিক হিরুর জোরালো অভিযোগ, এসপির চরম ব্যর্থতা, অদক্ষতা, শৈথিল্য ও পক্ষপাতমূলক আচরণের ফলেই মূলত কক্সবাজার জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন শোচনীয় অবনতি ঘটেছে।
জেলা পুলিশের অন্তত ৩৫ জন কর্মকর্তা ও সদস্যের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ হলো—এসপির হঠকারী ও অপরিপক্ব সিদ্ধান্ত, অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের ঢালাও বদলি এবং কথায় কথায় বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (ACR) ও সার্ভিস বুকে বিরূপ মন্তব্য লেখার ভয় দেখানোর কারণে সমগ্র পুলিশ বাহিনীতে এক ধরণের চরম অসন্তোষ ও ভীতি বিরাজ করছে।
কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্যসচিব এইচ এম নজরুল ইসলাম এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এমন একজন বিতর্কিত ও হঠকারী ব্যক্তি কীভাবে বাংলাদেশের পর্যটন নগরী ও অত্যন্ত সংবেদনশীল কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, তা আমার কিছুতেই বোধগম্য হয় না। তিনি কক্সবাজারে যোগদানের পর থেকে পুলিশের হেফাজত ও খোদ থানা থেকে ইয়াবা ও আলামত গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনা যেন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পরও তিনি সম্পূর্ণ নির্লজ্জের মতো এ ধরনের বিতর্কিত কর্মকর্তাদের দফায় দফায় প্রকাশ্যে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছেন।”
এ সকল সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও অনিয়মের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পুলিশ সুপার (এসপি) এ এন এম সাজেদুর রহমানের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। প্রথমে তাঁর ফোন রিসিভ না করলেও পরবর্তীতে অন্য একজন রিসিভ করে জানান যে এসপি স্যার বর্তমানে একটি জরুরি মিটিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। এরপর ফোনের লাইন কেটে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে আর তাঁর সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, ১ লাখ পিস ইয়াবা আত্মসাতের এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে কোনো তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো অভিযুক্ত এসআইকে পুরস্কৃত করার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস গণমাধ্যমকে জানান, পুরো বিষয়টি সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণভাবে অবগত নন। অভিযোগ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য ও নথি দ্রুত তাঁর দপ্তরে পাঠানোর জন্য তিনি অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দৃঢ় আশ্বাস প্রদান করেন ডিআইজি।