যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: কিশোরগঞ্জে দুই গ্রুপের পৃথক কর্মসূচি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৪ অপরাহ্ণ
যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: কিশোরগঞ্জে দুই গ্রুপের পৃথক কর্মসূচি
যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

নূর আহাম্মদ পলাশ, কিশোরগঞ্জ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদল দুটি পৃথক ধারায় বিভক্ত হয়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেছে। আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) জেলার বিভিন্ন স্থানে আনন্দ র‍্যালি, আলোচনা সভা ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোশতাক আহমেদ শাহীনের নেতৃত্বে একটি বিশাল আনন্দ র‍্যালি শহরের পুরাতন স্টেডিয়াম এলাকা থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান।

সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল এ দেশের অন্যতম শক্তিশালী একটি আন্দোলনমুখী সংগঠন। বিগত দিনের স্বৈরাচারবিরোধী সকল রাজপথের সংগ্রামে এটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এসেছে। আপনাদের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ থাকবে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নীতি ও আদর্শ বুকে ধারণ করে সততার সাথে দল পরিচালনা করুন।”

একই সাথে কঠোর সাংগঠনিক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি আরও বলেন, “দলের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে যদি চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে আমাদের নেতা তারেক রহমানের এই সংগঠনে তাদের বিন্দুমাত্র কোনো স্থান হবে না।”

উক্ত আনন্দ র‍্যালি ও সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল হোসেন, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোশতাক আহমেদ শাহীন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নেভীনসহ জেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সুমনের উদ্যোগে অপর একটি সুসজ্জিত ও বর্ণাঢ্য র‍্যালি শহরের রথখোলা এলাকা থেকে শুরু হয়। র‍্যালিটি পুরো শহর প্রদক্ষিণ শেষে আখড়া বাজার ব্রিজ সংলগ্ন নজরুল চত্বরে গিয়ে এক আলোচনা সভায় শেষ হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বিগত কঠিন সময়ে যুবদলের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম যেমন অত্যন্ত প্রশংসিত ছিল, আমি প্রত্যাশা করি আগামী দিনেও নতুন বাংলাদেশ গঠনে তারা ইতিবাচক ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাবে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসরাইলী মিয়া। জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুই গ্রুপের এই পৃথক শোডাউন ও কর্মসূচিকে ঘিরে দিনভর শহরের প্রধান সড়ক ও সমাবেশস্থল নেতাকর্মীদের স্লোগানে মুখরিত ছিল। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, রাজনৈতিক বিভাজন থাকলেও দুটি কর্মসূচিই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শেষ হয়েছে।

এদিকে জেলা যুবদলের সভাপতি খসরুজ্জামান শরীফ শারীরিক অসুস্থতার কারণে কোনো কর্মসূচিতেই সশরীরে অংশ নিতে পারেননি। তবে জেলা যুবদলের শীর্ষ নেতৃত্বের এমন পৃথক কর্মসূচি পালন স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে দলের অভ্যন্তরীণ দীর্ঘদিনের বিভাজনের চিত্রটি আবারও স্পষ্ট করে তুলেছে।