জামালপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা: স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫০ অপরাহ্ণ
জামালপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা: স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত

জামালপুর সদর উপজেলায় যৌতুকের দাবিকৃত টাকা না পেয়ে স্ত্রী তমা খাতুনকে নৃশংসভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করার দায়ে স্বামী জনি মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে পাঁচ লাখ টাকা আর্থিক জরিমানা করার আদেশ প্রদান করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিজ্ঞ বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এই জনগুরুত্বপূর্ণ রায়ের ঘোষণা দেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত মূল আসামি জনি মিয়া আদালত থেকে পলাতক ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জনি মিয়া (৩৫) জামালপুর সদর উপজেলার দড়িমোহনপুর এলাকার বাসিন্দা ইয়াকুব আলীর ছেলে।

মামলার এজাহার ও বিচারিক আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে জামালপুর সদর উপজেলার লাহিড়ীকান্দা এলাকার বাসিন্দা উম্মে কুলছুমের মেয়ে তমা খাতুনের সাথে জনি মিয়ার পারিবারিকভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের সময় কনের দরিদ্র পরিবার সামর্থ্য অনুযায়ী বরপক্ষকে পাঁচ হাজার টাকা মূল্যের হাঁড়িপাতিল ও পরনের কাপড়চোপড় উপহার হিসেবে প্রদান করে।

তবে বিয়ের মাত্র কয়েক মাস অতিক্রান্ত হতে না হতেই একটি নতুন অটোরিকশা ক্রয়ের অজুহাতে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে নগদ আড়াই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন জনি মিয়া। কনের অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার দাবিকৃত সেই বিপুল পরিমাণ অর্থ যৌতুক হিসেবে দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তমার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়। এই যৌতুকের নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের ১৯ মার্চ দুপুরে তমা খাতুনকে নিজ বাসভবনে নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করেন স্বামী জনি মিয়া।

তমাকে হত্যার এ ঘটনায় নিহতের মা উম্মে কুলছুম বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে মূল অভিযুক্ত জনি মিয়াকে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন বা চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সার্বিক সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালত আসামি জনি মিয়ার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের চূড়ান্ত আদেশ দেন।

মামলার ফলাফলের বিষয়ে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে সর্বমোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। শুনানি শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত জনি মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকার আর্থিক দণ্ডপ্রদানের আদেশ দিয়েছেন।