প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় ১১ লাখে সমাধান!

প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় ১১ লাখে সমাধান!

সামজাদ জসি, স্টাফ রিপোর্টার: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বেসরকারি 'আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে' ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি রাকিবা আক্তার (২০) মৃত্যুর ঘটনায় ১১ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি রফাদফা করা হয়েছে। তবে বিভাগীয় তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় হাসপাতালের কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (৯ এপ্রিল) সকালে গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা অবস্থাতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা যায়। তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই কীভাবে একটি বিতর্কিত হাসপাতাল চালু হলো, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।

গত বুধবার অনুষ্ঠিত এক শালিসি বৈঠকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। শালিস সভার সভাপতি মো. খবির উদ্দিন মাস্টার জানান, জরিমানার ৮ লাখ টাকা মৃত প্রসূতির নবজাতক সন্তানের নামে ফিক্সড ডিপোজিট করা হবে। বাকি ৩ লাখ টাকা প্রসূতির স্বামী ও বাবার বাড়ির লোকজনের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে স্বামীর পরিবার এই অর্থ গ্রহণে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে।

রাকিবার বাবা শফিকুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, বড়লোকদের সাথে লড়াই করার সামর্থ্য আমাদের নেই। মেয়ে তো আর ফিরে আসবে না, আল্লাহই এর বিচার করবেন।” এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, তদন্ত চলমান থাকায় বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করতে চাইলে পুলিশ সব ধরনের সহযোগিতা করবে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা দ্রুতই জেলা সিভিল সার্জনের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবেন।

উল্লেখ্য, গত ৪ এপ্রিল ডা. সৈয়দ কামরুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে সিজারিয়ান অপারেশনের কিছুক্ষণ পরই রাকিবার মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর খবর গোপন করে তড়িঘড়ি করে রোগীকে অন্যত্র পাঠানোর নাটক করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন