কিশোরগঞ্জে ৮ মাসে ৮ জনের এইচআইভি শনাক্ত, আক্রান্ত সবাই পুরুষ

প্রকাশ: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩১ পূর্বাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে ৮ মাসে ৮ জনের এইচআইভি শনাক্ত, আক্রান্ত সবাই পুরুষ
সচেতনতামূলক প্রতীকী ছবি (ফাইল ছবি)

কিশোরগঞ্জ জেলায় চলতি বছরের প্রথম আট মাসে নতুন করে আটজনের শরীরে মরণব্যাধি এইচআইভি (HIV) ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, শনাক্ত হওয়া এই আটজনের সবাই পুরুষ এবং তাদের সবার বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের যুবসমাজ ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি’র প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১০ সাল থেকে ২০২০ সালের আগপর্যন্ত কিশোরগঞ্জ জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে এইচআইভি আক্রান্ত কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে গত সাড়ে ছয় বছরে জেলায় অন্তত ১ হাজার ৫০০ সন্দেহজনক ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করে মোট ২৫ জনের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আক্রান্ত এই ২৫ জনের মধ্যে বেশিরভাগই পেশাগতভাবে যানবাহনের চালক (ড্রাইভার), হকার কিংবা বিভিন্ন ধরনের নেশায় আসক্ত ব্যক্তি।

সংস্থার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, শনাক্ত হওয়া মোট ২৫ জনের মধ্যে ২২ জনই বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির ভৈরব কার্যালয়ের আওতাধীন এলাকার এবং বাকি তিনজন কিশোরগঞ্জ সদর কার্যালয়ের আওতাধীন এলাকার বাসিন্দা। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে শনাক্ত হওয়া আটজনের মধ্যে পাঁচজন ভৈরব এবং তিনজন কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের।

আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা জানান, শনাক্ত হওয়া রোগীদের সরকারি ব্যবস্থাপনার নির্দিষ্ট হাসপাতালের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। ২৫ জনের মধ্যে দুজন চিকিৎসার বাইরে চলে গেছেন এবং খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তাঁরা ইতিমধ্যে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছেন। বাকি রোগীরা নিয়মিত অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি বা এআরটি (ART) গ্রহণ করছেন।

কিশোরগঞ্জের নবনিযুক্ত সিভিল সার্জন ডা. সাইদুর রহমান জেলার এইচআইভি পরিস্থিতির বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ভাবনার খোরাক জোগায়। এ ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি ও পরীক্ষার পরিধি আরও বাড়ানো জরুরি। সংক্রমণ প্রতিকারে করণীয় ঠিক করতে তিনি ঊর্ধ্বতন কেন্দ্রীয় মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন বলে জানিয়েছেন।

বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির ভৈরব কার্যালয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্ত আদানপ্রদানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার কড়া পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কিশোর কুমার ধর জানিয়েছেন, বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির প্রতিবেদনে তিনি দাপ্তরিকভাবে স্বাক্ষর করেছেন এবং ওই প্রতিবেদনের মাধ্যমেই কিশোরগঞ্জে এইচআইভির এই পরিস্থিতির কথা জানতে পেরেছেন। আতঙ্কিত না হয়ে সাধারণ মানুষকে অধিকতর সচেতন থাকার এবং নিরাপদ জীবনযাপনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস ও এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশেই এই ভাইরাসের বিস্তার রোধে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ২০২৫ সালে সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৮৯১ জন এইচআইভিতে সংক্রমিত হয়েছেন এবং একই সময়ে এইডসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২১৯ জন।

মন্তব্য করুন