চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৩ গাড়ি

প্রকাশ: শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৪:৩৮ অপরাহ্ণ
চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৩ গাড়ি

মোঃ আক্তার হোসেন, জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জজ কোর্ট সংলগ্ন পার্কিং এলাকা থেকে চুরি হওয়া একটি প্রাইভেটকার উদ্ধারের সূত্র ধরে একটি সক্রিয় আন্তঃজেলা গাড়ি চোরচক্রের পর্দা ফাঁস করেছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র ৫ দিনের মাথায় চালানো এই বিশেষ অভিযানে চক্রের মূলহোতাসহ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং মোট তিনটি চোরাই গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান মুন্সী।

পুলিশ ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ২২ জুন দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জজ কোর্টের সামনের পার্কিং এলাকায় নিজের টয়োটা এক্স করোলা (মডেল-২০০৬) প্রাইভেটকারটি রেখে নাস্তা করতে যান মালিক মোহাম্মদ আরিফ। কিছু সময় পর ফিরে এসে তিনি দেখেন তাঁর গাড়িটি উধাও। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ফতুল্লা মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি চুরির মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর ফতুল্লা মডেল থানার একটি বিশেষ তদন্ত দল মাঠে নামে। তারা আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় প্রথমে ফতুল্লার দেলপাড়া-চিতাশাল এলাকা থেকে চক্রের মূলহোতা মুক্তার হোসেন ওরফে মুক্তাকে (৪৮) গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে চক্রের অপর দুই সক্রিয় সদস্য মো. মোমিনুর রহমান ওরফে লিটন (৪২) ও আলাউদ্দিনকে (৩৬) গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁদের দেখানো জায়গা থেকে আরিফের চুরি হওয়া টয়োটা এক্স করোলা গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। একই সাথে চক্রের হেফাজত থেকে চোরাই একটি পুরাতন নোয়া মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো-গ-১৪-৯২৩০) এবং আরও একটি প্রাইভেটকার (চট্টগ্রাম মেট্রো-ঘ-১১-২৮০) জব্দ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এসপি মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত তিনজনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে চারটি গাড়ি চুরি ও একটি মাদক মামলা। এরা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পার্কিং ও নির্জন স্থানে থাকা গাড়ি সুকৌশলে চুরি করে নম্বর প্লেট বদলে বিক্রি বা পাচার করে আসছিল। মাত্র ৫ দিনের মধ্যে পুরো চক্রটিকে আইনের আওতায় আনা আমাদের বড় সাফল্য। নারায়ণগঞ্জে কোনো অপরাধী চক্রের ঠাঁই হবে না।”

তিনি আরও জানান, এই চক্রের সাথে অন্য কোনো প্রভাবশালী বা গডফাদার জড়িত আছে কিনা এবং উদ্ধার হওয়া বাকি গাড়িগুলোর প্রকৃত মালিক কারা, তা যাচাইয়ের কাজ চলছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন