পলাশবাড়ীতে রামমূর্তি অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৮:১৬ অপরাহ্ণ
পলাশবাড়ীতে রামমূর্তি অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন

উপজেলা প্রতিনিধি, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা): গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে একটি নির্মাণাধীন রামমূর্তি অপসারণের দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে পলাশবাড়ী ইমাম-ওলামা পরিষদ, সর্বস্তরের তৌহিদী জনতা এবং সচেতন নাগরিক সমাজ।

আজ শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজ শেষে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পলাশবাড়ী চৌমাথা মোড়ে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসা, ইসলামী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ হাজার হাজার সাধারণ মুসুল্লি অংশ নেন।

পলাশবাড়ী ইমাম-ওলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা সাদেকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামের উপজেলা সভাপতি মাওলানা শাহ আলম ফয়েজী, জামায়াত নেতা ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবু তালেব মাস্টার, জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি খাইরুল ইসলাম চাঁনসহ বিভিন্ন স্তরের ওলামা মাশায়েখরা।

বক্তারা বলেন, “স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় ধরে পলাশবাড়ীতে সব ধর্মের মানুষ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন, এখানে কখনো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কোনো অবনতি ঘটেনি। কিন্তু হঠাৎ করে কারা, কী উদ্দেশ্যে এবং কার অর্থায়নে এই বৃহৎ রামমূর্তি নির্মাণ করছে, তা দ্রুত তদন্ত করে জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।” আলেম-ওলামারা আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই নির্মাণাধীন মূর্তিটি অপসারণ এবং এর পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় আগামীতে আরও কঠোর ও রাজপথ অবরোধের মতো কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

এদিকে মূর্তি নির্মাণ ও মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে এলাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসন পুরো এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। শুক্রবার সকাল থেকেই পলাশবাড়ী চৌমাথা মোড়, কোমরপুর মোড় এবং হাসবাড়ী এলাকাসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে তিনজন বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের সহায়তায় মাঠে নিয়োজিত ছিল দুই প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), এক প্লাটুন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (APBn), র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশের কয়েকশ সশস্ত্র সদস্য।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক তদারকিতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি শাহ মো. তাজুল ইসলাম, গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শরীফ আল রাজীব পিপিএম এবং পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান।

বিকেলের দিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বর্তমানে পলাশবাড়ীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা বা উসকানিমূলক পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন ও যৌথবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন