কয়রায় খুদে বিজ্ঞানীদের মেলায় মেধার জয়

প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ অপরাহ্ণ
কয়রায় খুদে বিজ্ঞানীদের মেলায় মেধার জয়

মোস্তাফিজুর রহমান, কয়রা (খুলনা): খুলনার কয়রায় অত্যন্ত উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে "স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশনアイデア শোকেসিং প্রোগ্রাম" অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (ماউশি) এসইডিপি-এর অধীন ‘এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS)’-এর আয়োজনে এবং কয়রা উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের বাস্তবায়নে এই ব্যতিক্রমী মেলা সম্পন্ন হয়।

আজ শুক্রবার (১২ জুন) সকাল ১০টায় কয়রা মদিনাবাদ সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপকূলীয় অঞ্চলের ১০টি স্কুলের খুদে বিজ্ঞানীদের নিয়ে এই মেলা বসে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা মো. আবুল কালাম আজাদ। কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আব্দুল্লাহ আল বাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিবান্ধব ও আধুনিক উদ্ভাবনী শিক্ষায় দীক্ষিত হতে হবে। এই ধরনের বিজ্ঞান মেলা তরুণ প্রজন্মের সুপ্ত মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে চমৎকার ভূমিকা রাখবে। উপকূলের এই খুদে বিজ্ঞানীদের নতুন নতুন আইডিয়া ও স্টার্টআপগুলো আগামী দিনে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”

মেলায় উপজেলার ১০টি প্রত্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আকর্ষণীয় সব স্টল নিয়ে অংশ নেয়। স্কুলগুলো হলো— বড়বাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গ্রাজুয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আমাদী জায়গীর মহল তকিমউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভাগবা এইচ.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কালিকাপুর চৌকুনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বেদকাশী কলেজিয়েট স্কুল, চান্নিরচক এলসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জাকারিয়া শিক্ষা নিকেতন এবং স্বাগতিক কয়রা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

মেলায় আসা দর্শনার্থী ও বিচারকদের সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে কালিকাপুর চৌকুনী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মো. মাসুদুর রহমানের উদ্ভাবিত 'ডিজিটাল হেলথ বুথ' প্রজেক্টটি। নিজের উদ্ভাবন সম্পর্কে মাসুদুর বলে, “আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডের উপযোগী একটি ‘ডিজিটাল হেলথ বুথ’ তৈরির আইডিয়া নিয়ে এসেছি। এই বুথের ভেতর আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকবে, যেখান থেকে গ্রামীণ মানুষ নামমাত্র মূল্যে এক্স-রে, ইসিজি ও রক্ত পরীক্ষাসহ জরুরি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে পারবেন। পাশাপাশি ভিডিও কলের সাহায্যে সরাসরি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও ডিজিটাল রিপোর্ট পেয়ে যাবেন। এর ফলে উপকূলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসা খরচ ও ভোগান্তি দুটোই কমে যাবে।”

কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে কয়রা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, “শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তি প্রকাশের লক্ষ্যেই এই বিশেষ আয়োজন। সাধারণ বিজ্ঞান মেলায় শুধু প্রচলিত বিজ্ঞান প্রজেক্ট থাকে; কিন্তু এখানে সায়েন্স প্রজেক্টের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় নতুন স্টার্টআপ এবং ইনোভেশন আইডিয়া যুক্ত করা হয়েছে।” তিনি জানান, যাচাই-বাছাই শেষে সেরা প্রজেক্টগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে, যারা পরবর্তীতে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় কয়রা উপজেলার প্রতিনিধিত্ব করবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কয়রা কপোতাক্ষ কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ওলিউল্লাহ, কয়রা আমিনিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা ইউনুস আলী, কয়রা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান, ঘুগরাকাটি ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মাওলানা সুজাউদ্দিন, কয়রা মদিনাবাদ মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন, স্থানীয় সুধী সমাজ এবং সাংবাদিকবৃন্দ।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন