ফিলিস্তিন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক বৈঠক আজ, অংশ নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৮:২৭ অপরাহ্ণ
ফিলিস্তিন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক বৈঠক আজ, অংশ নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের উদ্যোগকে সামনে রেখে আজ শুক্রবার প্যারিসে আন্তর্জাতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এতে অংশ নিলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অংশগ্রহণ থেকে বিরত রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ-সমর্থিত ‘নিউ ইয়র্ক ডিকলারেশন’-এর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পথ থেকে সরে না যাওয়ার আহ্বান জানানো।

ওই ঘোষণাপত্রে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ কয়েকটি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, অব্যাহত সংঘাত, বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং গাজা যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে স্থবিরতার কারণে এই সম্মেলন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সম্মেলন শেষে আট দফার একটি ‘কল ফর অ্যাকশন’ প্রকাশ করা হবে। এতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ, গাজার পুনর্গঠন, প্রশাসনিক সংস্কার এবং নাগরিক সমাজের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হবে।

এই কর্মপরিকল্পনা আগামী সোমবার ফ্রান্সের আল্পস অঞ্চলে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

সম্মেলনসংশ্লিষ্ট নথিতে বলা হয়েছে, গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ, সহিংসতা এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সম্ভাবনাকে দুর্বল করছে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষ ভয়, অনিশ্চয়তা এবং মানসিক আঘাতের মধ্যে জীবনযাপন করছে। একই সঙ্গে জি-৭ সম্মেলনের মতো বৈশ্বিক আলোচনায় এই সংকট উপেক্ষিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধি এবং প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর অসন্তোষ বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কূটনীতিকদের মতে, বসতি সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে জেরুজালেমের পূর্বাঞ্চলে পরিকল্পিত ই-১ স্যাটেলমেন্ট প্রকল্প। সমালোচকদের মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীর কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে এবং পূর্ব জেরুজালেমের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের ভৌগোলিক সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এর আগে গত মঙ্গলবার ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও নরওয়ে পশ্চিম তীরে সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ইসরায়েলি নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে সমন্বিত নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাষ্ট্রদূতকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি সম্মেলনে অংশ নেবেন না। দূতাবাসের দাবি, এই সম্মেলনের সঙ্গে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো সম্পর্ক নেই।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ফ্রান্স কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না। পাশাপাশি ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অতীতে ফিলিস্তিনিরা একাধিকবার পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

মন্তব্য করুন