সীমান্তে পুশইন আন্তর্জাতিক আইন পরিপন্থি: চরমোনাই পীর

প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ অপরাহ্ণ
সীমান্তে পুশইন আন্তর্জাতিক আইন পরিপন্থি: চরমোনাই পীর

অনলাইন ডেস্ক: সীমান্তে ভারতের ‘পুশইন’ (জোরপূর্বক মানুষ ঠেলে দেওয়া) কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক আইন ও মৌলিক মানবাধিকারের চরম পরিপন্থি বলে আখ্যায়িত করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভারতের এ ধরনের একতরফা ও অমানবিক আচরণ দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

আজ শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পঞ্চগড় জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক দোয়া অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

চরমোনাই পীর সীমান্তে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “বর্তমানে সীমান্তে যে পুশইন কার্যক্রম আমরা লক্ষ্য করছি, তা সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও মানবতাবিরোধী। যেভাবে নিরপরাধ মানুষকে জোরপূর্বক ঠেলে দিয়ে এক অমানবিক ও অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে ফেলা হচ্ছে, তা কোনো সভ্য রাষ্ট্র করতে পারে না। এটি আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট ও নগ্ন লঙ্ঘন।”

সীমান্তের এই সংকটময় মুহূর্তে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে রেজাউল করীম বলেন, “আমাদের বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে অত্যন্ত ধৈর্য, সাহসিকতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছেন। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তাদের এই অতন্দ্র প্রহরাকে আমরা সাধুবাদ জানাই এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিজিবি-কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

তিনি ভারতকে এ ধরনের আন্তর্জাতিক আইনবহির্ভূত ও উসকানিমূলক আচরণ থেকে অবিলম্বে সরে আসার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, যেকোনো দ্বিপাক্ষিক সমস্যা আলোচনা ও শক্তিশালী কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। প্রয়োজনে এই পুশইন বন্ধে জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের সহযোগিতা ও মধ্যস্থতা নেওয়া যেতে পারে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, “যথাযথ জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে কোনো বাজেটই সাধারণ জনগণের জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না।”

তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের রিকশাচালক থেকে শুরু করে প্রতিটি খেটে খাওয়া মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারকে কর ও ভ্যাট দিচ্ছে। তাই জনগণের এই কষ্টের অর্থ কোন খাতে কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তা জাতির সামনে সম্পূর্ণ পরিষ্কার থাকতে হবে। সরকার যদি জবাবদিহি, আর্থিক স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করে বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারে, তবেই এর সুফল তৃণমূলের মানুষের কাছে পৌঁছাবে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন