ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
জাফর ইকবাল, শিবগঞ্জ (বগুড়া): বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা বন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই দেদারসে চলছে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের অবৈধ বাণিজ্য। ড্রাম থেকে পাইপের মাধ্যমে বোতলে তেল ভরে বিক্রির এই বিপজ্জনক প্রক্রিয়ায় যেমন জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে, তেমনি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মোকামতলা, মহাস্থান, পাকুরতলা, রহবল ও কিচকসহ উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে লাইসেন্সবিহীন অসংখ্য দোকান গড়ে উঠেছে। এসব দোকানে খোলা জায়গায় ড্রাম ও জারভর্তি করে জ্বালানি তেল রাখা হচ্ছে। কোনো প্রকার অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছাড়াই জনবহুল এলাকায় বিপজ্জনকভাবে এই ব্যবসা চলায় স্থানীয় বাসিন্দারা সবসময় আতঙ্কে থাকেন।
মোকামতলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাহমুদুল হাসান চয়ন তালুকদার জানান:
“গত কয়েক বছরে এলাকায় তেলের দোকানে আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এরপরেও ব্যবসায়ীরা সচেতন নন। আশপাশের বাসাবাড়ি ও দোকানদাররা সবসময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকেন।”
অভিযোগ রয়েছে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা বা তেলের সামান্য সংকট দেখা দিলেই এই অসাধু চক্রটি তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে তারা দ্বিগুণ দামে তেল বিক্রি করে থাকে। সম্প্রতি (৯ মার্চ ২০২৬) মোকামতলায় তেলের অতিরিক্ত দাম চাওয়ার প্রতিবাদ করায় এক মোটরসাইকেল চালককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সাধারণ চালকদের অভিযোগ, এসব অনুমোদনহীন দোকানে শুধু দামই বেশি নেওয়া হয় না, বরং পরিমাপে কম দেওয়া এবং ভেজাল তেল মেশানোর অভিযোগও রয়েছে। দ্রুত পাওয়ার আশায় অনেক চালক এখান থেকে জ্বালানি কিনলেও শেষ পর্যন্ত ইঞ্জিনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান বলেন:
“লাইসেন্স ছাড়া জ্বালানি তেল বিক্রি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অচিরেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এসব অবৈধ দোকানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে এবং আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে এই অবৈধ তেলের দোকানগুলো বন্ধ করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ