রেশনিং পদ্ধতিতে গণপরিবহনে ভোগান্তি ও ভাড়া নৈরাজ্য উস্কে দিতে পারে

রেশনিং পদ্ধতিতে গণপরিবহনে ভোগান্তি ও ভাড়া নৈরাজ্য উস্কে দিতে পারে

আসন্ন ঈদযাত্রায় পরিবহনে জ্বালানি তেল সরবরাহের নির্ধারিত সিলিং বা রেশনিং পদ্ধতি ভোগান্তি ও ভাড়া নৈরাজ্য উস্কে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটি জানিয়েছে, জ্বালানি সীমিত থাকলে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাবে। তাই ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঈদের দিন পর্যন্ত পরিবহন খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে তারা।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ দাবি জানান। তিনি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা ও আশপাশের জেলা থেকে প্রায় দেড় কোটি মানুষ বাড়ি ফিরবে। এছাড়া জেলা থেকে জেলায় আরও তিন থেকে চার কোটি মানুষের যাতায়াত হবে। এত বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা নেই।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঈদকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের পরিবহনে ব্যাপক যাতায়াত হবে। এর মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণির লঞ্চে প্রায় ৪০ লাখ ট্রিপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ৩০ লাখ ট্রিপ, হিউম্যান হলারে ৮০ লাখ ট্রিপ, কার ও মাইক্রোবাসে ৬০ হাজার ট্রিপ, দূরপাল্লার বাস ও মিনিবাসে ৩০ লাখ ট্রিপ, ঢাকার সিটি বাসে প্রায় ৪০ লাখ ট্রিপ এবং রাইডশেয়ারিং মোটরসাইকেলে প্রায় দুই কোটি ৫০ লাখ ট্রিপ হতে পারে। মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, এত অল্প সময়ে বিপুল মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রতিটি পরিবহনের সর্বোচ্চ ব্যবহার জরুরি, যা জ্বালানি সিলিংয়ের কারণে বাধাগ্রস্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সরবরাহ সীমিত থাকলে অসাধু পরিবহন মালিকরা সুযোগ বুঝে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে পারে, যা যাত্রীদের দুর্ভোগ ও ভাড়া নৈরাজ্যের পরিস্থিতি তৈরি করবে। এছাড়া বারবার জ্বালানি নিতে যাওয়ার কারণে যাতায়াত বিলম্বিত হবে এবং গণপরিবহনের নির্ধারিত ট্রিপ বাতিল হওয়ার আশঙ্কায় সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থার সময়সূচি লন্ডভন্ড হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি এড়াতে ঈদের দিন পর্যন্ত জ্বালানি তেল সরবরাহের সিলিং বা রেশনিং পদ্ধতি বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন