শ্রীপুরে বন বিভাগের ওপর অতর্কিত হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর
মহিউদ্দিন আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক: গাজীপুরের শ্রীপুরে সরকারি বনভূমি উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে ভূমিদস্যু ও দখলদারদের বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এই সংঘবদ্ধ হামলায় শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমানসহ অন্তত ১৬ জন বনকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা বন বিভাগের একটি সরকারি গাড়িও ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ১টার দিকে ঢাকা বন বিভাগের শ্রীপুর রেঞ্জের সাতখামাইর বিটের অধীনে শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের ডোমবাড়ির চালা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তেলিহাটি মৌজার সিএস ১২৩০ ও আরএস ১৩১৪ নম্বর দাগভুক্ত প্রায় এক একর মূল্যবান বনভূমিতে অবৈধভাবে দুটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছিল। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও জমি উদ্ধার অভিযানে যায় বন বিভাগের একটি বিশেষ দল। শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে সদর বিট কর্মকর্তা, সাতখামাইর বিট কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন বনকর্মী অংশ নেন।
সাতখামাইর বিট কর্মকর্তা বিপ্লব হোসেন একটি গণমাধ্যমকে জানান, বন বিভাগের সদস্যরা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে উচ্ছেদ শুরু করলে স্থানীয় দুলালের ছেলে আরমানের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বনকর্মীদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে মারধর শুরু করে এবং বন বিভাগের একটি সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করে।
তিনি আরও জানান, দখলদারদের এই নৃশংস হামলায় শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাত পেয়ে চিকিৎসাধীন। আহত অন্য সব বনকর্মীকে দ্রুত উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলার ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে বন বিভাগ নিশ্চিত করেছে।
আহত শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা সম্পূর্ণ আইনানুগভাবে বন বিভাগের বেদখল হওয়া সরকারি জমি উদ্ধার করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভূমিদস্যুরা দলবল নিয়ে আমাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালায়।"
এই বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম একটি গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এই বিষয়ে এখনো বন বিভাগের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।
|