বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফেজ আহম্মদ আর নেই
এম. জহিরুল হক মিলন, ফেনী প্রতিনিধি: ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জেলা জজ কোর্টের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও প্রবীণ আইনজীবী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট হাফেজ আহম্মদ (৮০) আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ৭টা ১০ মিনিটে ফেনী শহরের রামপুরস্থ নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মরহুমের জামাতা নূর আহমেদ বাবুল একটি গণমাধ্যমকে জানান, মরহুমের জানাজার নামাজ আজ মঙ্গলবার বাদ আসর শহরের ঐতিহাসিক মিজান ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
দলীয় সুত্রে জানা যায়, ১৯৬৪ সালে ফেনী সেন্ট্রাল হাই স্কুলে পড়াকালীন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে হাফেজ আহম্মদের রাজনীতির সূচনা হয়। ১৯৬৬ সালে তিনি স্কুল ছাত্রলীগের সভাপতি, ১৯৬৮ সালে শহর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৬৯ সালে মহকুমা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে স্থান পান। একই বছর গঠিত মহকুমা সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক, ১৯৭০ সালে ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৭২-৭৩ সালে মহকুমা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৯৮ সাল থেকে দীর্ঘ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন এই ত্যাগী নেতা।
২০১৯ সালের ২৫ অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে অ্যাডভোকেট আকরামুজ্জামান সভাপতি ও নিজাম উদ্দিন হাজারী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০২০ সালের ২৮ জুন করোনায় আক্রান্ত হয়ে আকরামুজ্জামান মারা গেলে একই বছরের ৯ ডিসেম্বর ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান তৎকালীন পিপি হাফেজ আহম্মদ। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট দলের বিশেষ বর্ধিত সভায় তাঁকে ভারমুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
অ্যাডভোকেট হাফেজ আহম্মদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, আইনজীবী সমিতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি ফেনী জেলা জজ কোর্টের একজন অত্যন্ত দক্ষ ও জনপ্রিয় আইনজীবী এবং সাবেক পিপি হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তাঁর এই অপূরণীয় ক্ষতিতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ এবং ফেনী জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যবৃন্দ। এক শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ একটি গণমাধ্যমকে বলেন, "অ্যাডভোকেট হাফেজ আহম্মদের মৃত্যুতে ফেনীবাসী একজন আদর্শবান রাজনীতিবিদ ও দক্ষ আইনজীবীকে হারালো। মহান মুক্তিযুদ্ধে ও এলাকার মানুষের অধিকার আদায়ে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।"
|