আইনজীবীর পোশাকে রুমিন ফারহানা, সংসদে আলোচনা
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ ও ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিতর্কের পাশাপাশি এক আকর্ষণীয় ও ভিন্নধর্মী আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পোশাক। নানামুখী রাজনৈতিক ইস্যুর ফাঁকে বেশ কিছুক্ষণ সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার পোশাক নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়। কারণ, তিনি আইনজীবীদের ব্যবহৃত বিশেষ ‘কলার ব্যান্ড’ পরে সংসদ অধিবেশনে অংশ নেন। বক্তব্য দেওয়ার শুরুতেই তিনি নিজেই এই পোশাকের বিষয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, “আদালতের আঙিনার বাইরে এই বিশেষ কলার ব্যান্ড পরা নিয়মসম্মত নয় বা পরা যায় না, তা আমি একজন আইনের শিক্ষার্থী ও পেশাদার আইনজীবী হিসেবে খুব ভালো করেই জানি। তবে কোন বিশেষ পরিস্থিতিতে এবং কেন আমি আজ এটি পরে সংসদে আসতে বাধ্য হয়েছি, তা স্পিকার নিশ্চয়ই আমার বক্তব্য ও দেশের চলমান প্রেক্ষাপট থেকে বুঝতে পারছেন।”
মূলত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দের তীব্র বিরোধিতা এবং দেশের বর্তমান নাজুক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রতীকী প্রতিবাদ ও সমালোচনা করার অংশ হিসেবেই তিনি এই বিশেষ পোশাকের প্রসঙ্গটি টেনে আনেন। আইন-শৃঙ্খলার অবনতির তীব্র সমালোচনা করে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ছাঁটাই করে মাত্র ১ টাকা করার দাবি জানান।
দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে রুমিন ফারহানা সংসদে জানান, সারা দেশে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১০টির বেশি খুনের ঘটনা ঘটছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও নাগরিক নিরাপত্তার এমন আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির মধ্যে এই মন্ত্রণালয়ের জন্য বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দের যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি তীব্র প্রশ্ন তোলেন।
কিছুটা রসাত্মক সুরে তিনি বলেন, “পুরো বাজেটের সব অর্থটাই যদি মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দিয়ে দেওয়া হয়, তারপরেও এই মন্ত্রণালয়ের সদিচ্ছার অভাবে কতটুকু উন্নয়ন হবে বা মানুষ কতটা নিরাপদ থাকবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।”
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাগ্মিতার প্রশংসা ও কাজের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমি নিজেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ডিবেট (বক্তব্য) অত্যন্ত মুগ্ধ হয়ে শুনি। কিন্তু এই মুগ্ধতা যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুধু মুখে না রেখে তাঁর কাজের মাধ্যমে পুরো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ছড়িয়ে দিতে পারতেন, তাহলে হয়তো আজ আমাদের সংসদে এই ছাঁটাই প্রস্তাব আনার কোনো প্রয়োজন হতো না।”
|