ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে বোরো ধান কাটার মৌসুমে কৃষি শ্রমিকের আকাশচুম্বী মূল্যে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বর্তমানে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দাঁড়িয়েছে ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা, যা স্থানীয় বাজারে প্রায় দেড় মণ ধানের দামের সমান। সোমবার ভোরে উপজেলার মূলগ্রাম বাজারের অস্থায়ী শ্রমবাজার ঘুরে কৃষকদের এই চরম সংকটের চিত্র দেখা গেছে।
অস্থায়ী শ্রমবাজারের চিত্র: বোরো মৌসুম শুরু হতেই ভোর থেকে উপজেলার বিভিন্ন মোড়ে ও রাস্তার পাশে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী শ্রমবাজার। কাঁচি, বাখ-দড়ি নিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শ্রমিকরা বাইসাইকেল বা ভ্যানযোগে এখানে জড়ো হন। কৃষকরা এসে তাঁদের দরদাম করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ‘কিনে’ নিয়ে যান। তবে শ্রমিকের চাহিদা বেশি থাকায় মজুরিও হয়েছে অস্বাভাবিক।
কৃষকদের হাহাকার: মূলগ্রামের চাষি মফিজুর রহমান জানান, প্রতি কাঠা জমির ধানের জন্য একজন শ্রমিকের মজুরি চাওয়া হচ্ছে ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা। বিপরীতে বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র এক হাজার থেকে ১১০০ টাকায়। তাঁর প্রশ্ন, “ধানের দাম না বাড়লে আমরা শ্রমিকের টাকা দেব কীভাবে? এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে আবাদ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।” আরেক কৃষক রুহুল আমিন জানান, দুই-একদিন আগে শ্রমিকের দাম ১৭০০-১৮০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।
শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের বক্তব্য: শ্রম বিক্রি করতে আসা আব্দুল করিম জানান, অন্য সময় ৫০০ টাকায় কাজ করলেও ধানের মৌসুমে হাড়ভাঙা খাটুনি আর চাহিদার কারণে ১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি চাইছেন। এদিকে কেশবপুর উপজেলা আড়ৎ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন জানান, তাঁরা মোটা ধান ১০০০ টাকা এবং চিকন ধান সর্বোচ্চ ১১০০ টাকা দরে কিনছেন।
কৃষি কর্মকর্তার ভাষ্য: উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন জানান, কেশবপুরে এবার বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর। ইতোমধ্যে ৪০ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে। মৌসুমে একসাথে সবার ধান কাটার প্রয়োজন পড়ায় শ্রমিকের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে সাময়িকভাবে শ্রমের দাম বেড়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অধিকাংশ ধান ঘরে উঠলে এই সংকট কেটে যাবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
জান্নাত/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ