মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) পরিচয় দিয়ে দেশজুড়ে সরকারি নিয়োগ, তদবির ও মামলা বাণিজ্যের অভিযোগে আব্দুল্লাহ আল মামুন নামের এক ধূর্ত প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে ঢাকার সাভার এলাকায় এক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ শুক্রবার (২২ মে) বিকেল ৫টায় নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ সারোয়ার আলম এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল্লাহ আল মামুন মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার উলাইল গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রধানমন্ত্রীর ভুয়া কর্মকর্তা সেজে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দাপট দেখিয়ে আসছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার আব্দুল্লাহ আল মামুন দেশের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের ফোন করে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব পরিচয় দিয়ে কোটি কোটি টাকার অবৈধ তদবির ও নিয়োগ বাণিজ্য করতেন। সর্বশেষ গত ১৮ মে তিনি সরাসরি সরকারের গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী এবং খাদ্য বিভাগের মহাপরিচালককে (ডিজি) ফোন করে প্রধানমন্ত্রীর এপিএস পরিচয় দিয়ে বিশেষ তদবিরের নামে চাপ প্রয়োগ করেন।
বিষয়টি নিয়ে ওই কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে তাঁরা তাৎক্ষণিক প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান প্রকৃত এপিএস-১-কে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আব্দুল্লাহ আল মামুন নামের কোনো ব্যক্তি সেখানে কর্মরত নেই। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ধানমন্ডি থানাকে বিষয়টি জানানো হয় এবং মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
প্রতারকের অবস্থান শনাক্ত করতে মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ সহায়তা নেয়। পরে বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে ঢাকার সাভারের জালেশ্বর এলাকার একটি বহুতল ভবনে অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানকালে এই ভুয়া এপিএস-এর হেফাজত থেকে একটি বিলাসবহুল জিপ গাড়ি উদ্ধার করা হয়, যার সামনে বিভ্রান্তি ছড়াতে ‘প্রেস’ লেখা ছিল। এছাড়া তাঁর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়পত্র, বিভিন্ন দপ্তরের জাল সিলমোহর এবং অবৈধভাবে দখল করা জমি কেনাবেচার অসংখ্য দলিলসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।
মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম আরও জানান, আব্দুল্লাহ আল মামুন কেবল ভুয়া পরিচয়ই দেননি, তিনি একজন দাগী পেশাদার অপরাধী। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ব্যাংকের চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে ৬টি নিয়মিত মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় আদালতের রায়ে তিনি ইতিমধ্যেই সাজাপ্রাপ্ত (দণ্ডপ্রাপ্ত) আসামি। সাজা এড়াতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজধানী ও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় ছদ্মনামে পলাতক ছিলেন এবং এই ভুয়া পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। তাঁর সাথে প্রশাসনের আর কোনো অসাধু কর্মকর্তা জড়িত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে ডিবি পুলিশ গভীর তদন্ত শুরু করেছে।
এ.আই.এল/সকালবেলা