ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
আব্দুর রাজ্জাক বাবু, সিরাজগঞ্জ: পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিনেই সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আগুন লেগেছে। উপজেলার প্রধান দুই বাজার—চালা ও মুকুন্দগাঁতী ঘুরে দেখা গেছে, চাল, ডাল, তেল ও ছোলাসহ প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাজার ঘুরে দেখা যায়, ইফতারের অপরিহার্য অনুষঙ্গ লেবুর দাম আকাশচুম্বী। এক সপ্তাহ আগে যে লেবু ১২০-১২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে, আজ তা প্রতি কেজি ২০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। মোটা চালের দাম স্থিতিশীল থাকলেও ভালো মানের চিকন চাল কেজিতে ৬-৮ টাকা বেড়ে ৬৫-৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোজার আগে ৭৯ টাকায় বিক্রি হওয়া ছোলা এখন ৯০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যান্য পণ্যের মধ্যে খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ২০০-২০৫ টাকা, মসুর ডাল ১১০-১১৫ টাকা এবং মানভেদে খেজুর ৫০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সবজির বাজারে বেগুন ৬৫ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা, রসুন ১৬০-২০০ টাকা এবং চিনি ১০০-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমিষের বাজারেও স্বস্তি নেই; গরুর মাংস ৭৫০ টাকা, ব্রয়লার ১৯০ টাকা এবং চাষের মাছ ৩০০-৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে আসা ক্রেতা মোতালেব সরকার আক্ষেপ করে বলেন, “রোজা এলেই বাজারে আগুন লাগে। লেবু, শসা আর বেগুনের দাম শুনে মাথা ঘুরে যায়। সংসার চালানো এখন দায় হয়ে পড়েছে।” ফল কিনতে আসা সাইফুল ইসলাম জানান, দাম এত বেশি যে প্রয়োজনের অর্ধেকও কেনা সম্ভব হচ্ছে না।
বিক্রেতারা দাম বাড়ার পেছনে পরিবহন ব্যয় ও আড়তদারি কমিশন বৃদ্ধির অজুহাত দিলেও সাধারণ ক্রেতারা একে 'অসাধু সিন্ডিকেট' বলে দাবি করছেন। নাসির উদ্দীন নামের এক ক্রেতা বলেন, “রমজান এলেই ব্যবসায়ীরা অতি মুনাফার আশায় সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দেয়। প্রশাসনের উচিত প্রতিদিন বাজার মনিটরিং করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ রাখা।”
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখতে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও কঠোর তদারকি ব্যবস্থা চালু করবে।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ