ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মোঃ মনোয়ার হোসেন, রাজশাহী: মহান ভাষা আন্দোলনের প্রায় ৭৪ বছর পর অবশেষে নিজস্ব কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পেল রাজশাহীবাসী। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে একুশের প্রথম প্রহরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে নবনির্মিত এই শহীদ মিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। এর মাধ্যমে রাজশাহীর সর্বস্তরের মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত একটি বড় দাবির সফল বাস্তবায়ন ঘটলো।
রাজশাহী নগরীর রাজারহাতা এলাকায় জেলা পরিষদের উদ্যোগে প্রায় ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে এই দৃষ্টিনন্দন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। উদ্বোধন শেষে শহীদ মিনারটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ভরে ওঠে মিনার প্রাঙ্গণ। রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক সমাজ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ হাজারো মানুষ সারিবদ্ধভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।
রাজশাহীতে একটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো এই দাবিতে সোচ্চার ছিল। সেই প্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর জেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল এই নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। রাজারহাতা এলাকায় সরকারি সার্ভে ইনস্টিটিউটের এক বিঘা জমির ওপর এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। মাঝপথে জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে মালিকানা ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কিছু জটিলতা দেখা দিলেও পরবর্তীতে জেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয়ে নির্মিত এই মিনারটি এখন রাজশাহীর অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান জানান, মহান ভাষা আন্দোলন ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে এবং ভাষা শহীদদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যেই এই মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। এটি রাজশাহীবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার ফসল। উদ্বোধনের পর থেকেই শহীদ মিনার চত্বরে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের সুর ও শোকাতুর আবহে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রাজশাহীর সাধারণ মানুষ ও বুদ্ধিজীবী সমাজ মনে করেন, এই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার কেবল শ্রদ্ধা নিবেদনের স্থানই নয়, বরং নতুন প্রজন্মের মাঝে ভাষা আন্দোলনের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ