শান্তিগঞ্জে জলমহালে হাজারো মানুষের তাণ্ডব: মাছ লুটের মহোৎসব

শান্তিগঞ্জে জলমহালে হাজারো মানুষের তাণ্ডব: মাছ লুটের মহোৎসব

খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার কাওয়াজুরী জলমহালে নজিরবিহীন মাছ লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ইফতারের পর থেকে কয়েক হাজার মানুষ সংঘবদ্ধ হয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে জলমহালটিতে হামলা চালায় এবং কয়েক ঘণ্টা ধরে মাছ লুটপাট করে। ইজারাদারের দাবি, এই পরিকল্পিত হামলায় তার অন্তত ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই শান্তিগঞ্জ উপজেলার কাওয়াজুরী, উফতিরপাড়, লাউগাঙ্গ এবং দিরাই উপজেলার নগদিপুর, ছোট নগদিপুর, ধীতপুর, ফুকিডর ও দৌলতপুর গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ জলমহাল সীমানায় জড়ো হতে থাকে। হামলাকারীরা জাল, পলো ও টেটাসহ মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে জলমহালের পাহারাদারদের তাড়িয়ে দেয়। ইফতারের পরপরই শুরু হওয়া এই তাণ্ডব চলে দীর্ঘ সময় ধরে। হাজারো মানুষের হইচই ও চিৎকারে পুরো এলাকা এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

জলমহালের ইজারাদার আঙ্গুর মিয়া অভিযোগ করে জানান, প্রায় ছয় মাস আগে শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা রাজস্ব দিয়ে তিনি জলমহালটি ইজারা নেন। পরবর্তীতে পোনা অবমুক্তকরণ ও রক্ষণাবেক্ষণে আরও প্রায় ২৪ লাখ টাকা খরচ করেন। তিনি বলেন, “মাছ ধরার মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই পরিকল্পিতভাবে সব মাছ লুটে নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে কেউ এই জলমহাল ইজারা নেওয়ার সাহস না পায়, সেই উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে। আমি এখন সর্বস্বান্ত।”

এদিকে, এত বড় আকারের প্রকাশ্য লুটপাটের ঘটনা ঘটলেও বিস্ময়করভাবে ‘কিছুই জানে না’ বলে দাবি করেছে পুলিশ। শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ অলি উল্যাহ জানান, মাছ লুটপাটের বিষয়ে তারা অবগত নন। ইজারাদার বা অন্য কেউ এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইফতারের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রকাশ্য দিবালোকে হাজার হাজার মানুষের এমন তাণ্ডব চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো তৎপরতা না থাকায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়েই এমন দুঃসাহসিক ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ইজারাদার দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন