ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে নিখোঁজের সাত দিন পর মারিয়া মিম (৭) নামে এক শিশুর অর্ধগলিত বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে যদুনাথপুর বারইপাড়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এই নৃশংস ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রবিউল ইসলাম রাফি ও সুমন নামে দুই যুবককে আটক করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন—একই এলাকার রহিম মিয়ার ছেলে রবিউল ইসলাম রাফি (২২) এবং ময়ান মিয়ার ছেলে সুমন (৩০)। আটক সুমন বিবাহিত ও কয়েক সন্তানের জনক বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সাত দিন ধরে শিশু মারিয়া নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে নিখোঁজ মারিয়ার পিতা উজ্জ্বল মিয়া ধনবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
রোববার ভোরে ফজরের নামাজ পড়ে ফেরার সময় পথচারীরা নান্নু মিয়া দপ্তরী নামে এক ব্যক্তির পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পান। খবর পেয়ে পুলিশ ও এলাকাবাসী ঘরের ভেতর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে উজ্জ্বল মিয়া ও জবেদা বেগম দম্পতি তাদের মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন। স্থানীয়রা জানান, বাড়ির মালিক নান্নু দপ্তরী অনেক আগেই মারা গেছেন এবং তার পরিবারের কেউ সেখানে থাকেন না।
মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং নিহতের স্বজনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। মারিয়ার খালাতো ভাই মোহাম্মদ জুবায়ের হোসেন অভিযোগ করেন, তার বোনকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে বস্তায় ভরে ওই পরিত্যক্ত বাড়িতে ফেলে রাখা হয়েছিল। তিনি এই ঘটনার সাথে আরও অনেকের জড়িত থাকার সন্দেহ পোষণ করে দোষীদের ফাঁসির দাবি জানান। মেয়ের লাশের পাশে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন মা জবেদা বেগম।
ধনবাড়ী থানা পুলিশ জানায়, খবর পাওয়ার পরপরই মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। সন্দেহভাজন দুইজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ বা আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ