বাগেরহাটে বিএনপি নেতার রহস্যজনক মৃত্যু

প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৭ অপরাহ্ণ
বাগেরহাটে বিএনপি নেতার রহস্যজনক মৃত্যু

মাসুম বিল্লাহ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ বাগেরহাট সদর উপজেলার রনবিজয়পুর গ্রামে বিএনপির এক নেতার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। 

আজ শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত আবুল কালাম চাকলাদার (৫৫) সদর উপজেলার রনবিজয়পুর গ্রামের মৃত হাতেম আলী চাকলাদারের ছেলে। তিনি ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও ওয়ার্ড বিএনপির সক্রিয় নেতা ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতে তিনি সদর উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

নিহতের স্বজনরা জানান, পারিবারিক কারণে প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে স্ত্রী শিল্পী আক্তার সন্তানদের নিয়ে বাগেরহাট শহরে বসবাস করছিলেন। এই দীর্ঘ সময় আবুল কালাম চাকলাদার নিজ গ্রামের বাড়িতে একাই থাকতেন। প্রতিদিনের মতো আজ শনিবার সকালে তাঁর স্বজন ইয়াসমিন বেগম খাবার দিতে ওই বাড়িতে যান। প্রথমে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি বাড়িতে প্রবেশ করেন। সেখানে ঘরের প্রধান দরজা খোলা অবস্থায় দেখতে পান এবং জানালার সঙ্গে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় খাটের ওপর বসে আছেন আবুল কালাম। কাছে গিয়ে তিনি তাঁকে মৃত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসেন এবং পুলিশে খবর দেন।

ইয়াসমিন বেগমের দাবি, ঘরের দরজা খোলা থাকা এবং বসা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় ঘটনাটি সাধারণ আত্মহত্যা বলে তাঁর মনে হচ্ছে না। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং কেউ জড়িত থাকলে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

বাগেরহাট সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান শিমুল বলেন, “আবুল কালাম চাকলাদার আমাদের ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাহী সদস্য ছিলেন। যতদূর জানি, গত কয়েক মাস ধরে তিনি পারিবারিক অশান্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। সকালে তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়েছি, তবে তাঁর মৃত্যু ঘিরে এক ধরনের রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। আমরা দলের পক্ষ থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।”

খবর পেয়ে বাগেরহাট সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

বাগেরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামসুল আরেফিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে। পুলিশ পুরো ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।”

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন