একটু বৃষ্টিতেই নোয়াখালীতে জলাবদ্ধতা, ভোগান্তিতে দেড় লাখ বাসিন্দা
মোঃ ইয়াছিন রুবেল, নোয়াখালী প্রতিনিধি: সারা দেশের মতো টানা বর্ষণের প্রভাব পড়েছে নোয়াখালীতেও। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর এতেই নোয়াখালী পৌরসভার জেলা শহর মাইজদীর প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এভাবে জলমগ্ন হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরসভার প্রায় দেড় লাখ বাসিন্দা। বর্ষার শুরুতেই আগাম জলাবদ্ধতার এমন নাজুক চিত্র স্থানীয়দের মনে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে জেলা শহর মাইজদীর প্রধান সড়কের বিভিন্ন স্থান, পুলিশ লাইন্স রোড, হাউজিং রোড, সার্কিট হাউজ সংলগ্ন এলাকা, ফকিরপুর রোড এবং পুরাতন জেলখানা সড়কসহ শহরের অধিকাংশ উপ-সড়কে পায়ের গোড়ালি সমান পানি জমে গেছে। ফলে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সালাউদ্দিন পিয়াস অভিযোগ করে বলেন, “অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, মূল সড়কের তুলনায় উঁচু ড্রেন নির্মাণ, নিয়মিত ময়লা পরিষ্কার ও সংস্কারের অভাব এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেন নির্মাণ করা হলেও অনেক স্থানে পানি ঠিকমতো নামতে পারে না। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে শহরের প্রধান খালগুলো পুনঃখনন ও পরিষ্কার না করায় বৃষ্টির পানি আটকে থাকে এবং জলাবদ্ধতা আরও তীব্র আকার ধারণ করে।”
পৌরবাসীর অভিযোগ, সদর হাসপাতাল সড়ক ও পুরাতন জেলখানা সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। তার ওপর ভরা বর্ষা মৌসুমে ড্রেন নির্মাণ ও সংস্কারকাজ চলায় অনেক সড়কের অবস্থা আরও বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি। ২০২৪-২৫ সালের ভয়াবহ বন্যার ক্ষত এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি নোয়াখালীবাসী। এরই মধ্যে বর্ষার শুরুতেই শহরের বিভিন্ন সড়ক ও বাসাবাড়ির আশপাশে পানি জমে নতুন করে আগাম জলাবদ্ধতার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বর্ষা পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই নোয়াখালী পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকর সংস্কার, শহরের খালগুলো পুনঃখনন এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পৌরবাসী। তাদের আশা, কর্তৃপক্ষ দ্রুত স্থায়ী উদ্যোগ নিলে জলাবদ্ধতা ও সম্ভাব্য বন্যার ঝুঁকি কমে জেলা শহর আবারও স্বাভাবিক ও বাসযোগ্য পরিবেশ ফিরে পাবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ নোয়াখালীর উপপরিচালক ডা. মো. শেখ ছাদেক বলেন, “নোয়াখালী পৌরসভা একটি ঐতিহ্যবাহী এবং নিম্নাঞ্চলভিত্তিক পৌরসভা হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে পানি জমে। জনদুর্ভোগ কমাতে পৌরসভা নিরলস কাজ করছে। গত অর্থবছরে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮টি খাল ও ৭টি ড্রেন পরিষ্কার করা হয়েছে। তবে অনেক স্থানে সাধারণ মানুষ যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার কারণে ড্রেনের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। পৌরসভার সক্ষমতা অনুযায়ী সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানে কাজ অব্যাহত থাকবে।”
এআইএল/সকালবেলা
|