জাহাজবাড়িতে ৯ তরুণ হত্যায় শেখ হাসিনাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫০ অপরাহ্ণ
জাহাজবাড়িতে ৯ তরুণ হত্যায় শেখ হাসিনাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কল্যাণপুর জাহাজবাড়ি হত্যা মামলার শুনানি চলাকালের চিত্র।

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর কল্যাণপুরের বহুল আলোচিত ‘জাহাজবাড়ি’ ভবনে তথাকথিত ‘জঙ্গি বিরোধী অভিযান ও নাটক সাজিয়ে’ ৯ তরুণকে নির্মমভাবে হত্যার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের আবেদন জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।

আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনাল বিচারিক প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন—বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

আজকের বিচারিক কার্যক্রমে প্রসিকিউশনের পক্ষে মূল শুনানি পরিচালনা করেন বিশিষ্ট প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম। শুনানিকালে তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে আনা আন্তর্জাতিক অপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও অভিযোগের বিবরণ ট্রাইব্যুনালের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান।

প্রসিকিউশনের শুনানি শেষে আসামিপক্ষের নিযুক্ত আইনজীবীরা পরবর্তী প্রস্তুতির জন্য সময়ের আবেদন জানালে, ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে আগামী ২ আগস্ট অভিযোগ গঠনের বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।

এই হাই-প্রোফাইল মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া দুই শীর্ষ আসামি—সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াকে আজ কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়।

অন্যদিকে, এই হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক থাকা অন্য ছয় আসামি হলেন—ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের তৎকালীন প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণ পদ রায় এবং তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন।

উল্লেখ্য, বিগত সরকারের আমলে কল্যাণপুরের ওই আবাসিক ভবনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ৯ তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘জঙ্গি নাটক’ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করে ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়।

মন্তব্য করুন