কাল দুই দিনের সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ—রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো দুই দিনের সরকারি সফরে আগামীকাল রবিবার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জেলার কৃতী সন্তানকে রাষ্ট্রপ্রধানের আসনে পেয়ে আনন্দিত ও গর্বিত ঠাকুরগাঁওবাসী তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও ভালোবাসায় বরণ করে নিতে এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।
আগামীকাল রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ও পরশু সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এই দুই দিনের হাই-প্রোফাইল সফরকে ঘিরে পুরো জেলাজুড়ে এক অভূতপূর্ব আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক, আইল্যান্ড এবং সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নতুন রঙের ছোঁয়া লেগেছে। তোরণ ও ব্যানারে সাজিয়ে পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে জেলা শহরের চারপাশ। একই সাথে স্থানীয় সচেতন সুধীসমাজ ও সর্বস্তরের জনসাধারণের উদ্যোগে এক ঐতিহাসিক নাগরিক সংবর্ধনার জোর প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত অফিশিয়াল সফরসূচি অনুযায়ী, সফরের প্রথম দিন রবিবার সকাল ১০টায় ঢাকা থেকে বিমানবাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে জেলা শহরের মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী হেলিপ্যাডে তাঁর অবতরণের কথা রয়েছে।
সেখান থেকে রাষ্ট্রপতি সরাসরি জেলা সার্কিট হাউসে যাবেন এবং সেখানে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি শহরের সেনুয়াপাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে যাবেন এবং তাঁর বাবা সাবেক মন্ত্রী মরহুম মির্জা রুহুল আমীন (চোখামিয়া) ও মা মরহুমা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত ও মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করবেন।
কবর জিয়ারত শেষে রাষ্ট্রপতি শহরের কালীবাড়িস্থ তাঁর নিজ পৈতৃক বাসভবনে যাবেন। সেখানে মধ্যাহ্নভোজ ও সংক্ষিপ্ত বিশ্রামের পর বিকেলে ঐতিহ্যবাহী ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য নাগরিক সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন ও সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
সংবর্ধনা শেষে সন্ধ্যায় তিনি পুনরায় নিজ বাসভবনে ফিরে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, নিকট আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় বিশিষ্টজনদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন এবং সেখানেই রাত্রিযাপন করবেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার সকালে রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ মহাসড়ক সংলগ্ন সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় জেলাবাসীর বহুল প্রতীক্ষিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর শুভ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে নিজ বাসভবনে ফিরে মধ্যাহ্নভোজ ও বিশ্রাম গ্রহণ করবেন। পরবর্তীতে সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার পরিদর্শন শেষে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ত্যাগ করবেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতির আগমনকে ঘিরে জেলাজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা। ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন জানান, রাষ্ট্রপতির সফর নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে জেলার প্রবেশপথ, গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক ও সভাস্থলগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “৫ সেপ্টেম্বর থেকেই জেলা পুলিশ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তাব্যবস্থায় চলে গেছে। রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনাস্থল, বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিপ্রস্তর প্রাঙ্গণ, যাতায়াতের প্রধান সড়ক এবং সার্কিট হাউস সংলগ্ন পুরো এলাকা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখা হবে।”