মাত্র ছয় মাসেই সরকারকে ব্যর্থ বলা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব : এমরান সালেহ প্রিন্স
দেশে বিদ্যমান জ্বালানি তেল ও গ্যাস সংকটের বাস্তবতায় দীর্ঘ পথের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হাজার হাজার গাড়ি ব্যবহারকে চরম জনস্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে বিরোধী দলকে অবিলম্বে তাদের ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ছয় মাসের মাথায় যারা সরকারকে ব্যর্থ বলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, মূলত তারাই রাজনৈতিকভাবে চরম ব্যর্থ।”
আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপি আয়োজিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা-পূর্ব বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জ্বালানি সংকটের পটভূমিতে বিরোধী দলের লংমার্চ নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলে প্রিন্স বলেন, “আপনারা যদি সত্যিকার অর্থেই জনস্বার্থে রাজনীতি করে থাকেন, তবে শুধু বহরের গাড়ির সংখ্যা কমানো কোনো সমাধান নয়; বিরোধী দলের উচিত সরাসরি এই লংমার্চ কর্মসূচিই প্রত্যাহার করা। যেখানে সামগ্রিক অর্থনীতিতে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের তীব্র সংকট বিরাজ করছে, সেখানে সুদূর পথের একটি কর্মসূচিতে হাজার হাজার ব্যক্তিগত গাড়ি ও বাস নামিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি অপচয় করা কতটা জনবান্ধব, তা সাধারণ মানুষ খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে।”
তিনি আরও যুক্তি তুলে ধরে বলেন, “কর্মসূচির বহরে ব্যবহৃত এই বিপুল পরিমাণ বহুমূল্য জ্বালানি যদি সাধারণ গণপরিবহন সচল রাখতে কিংবা কৃষি ও জরুরি উৎপাদন খাতে সাশ্রয় করা যেত, তবে দেশের সাধারণ জনগণ সরাসরি উপকৃত হতো। রাজনীতি হওয়া উচিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য, কৃত্রিম উপায়ে তাদের দুর্ভোগ শতগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য নয়।”
লংমার্চের দ্বিমুখী চরিত্রের সমালোচনা করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “একদিকে মুখে বলা হচ্ছে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে আন্দোলন, অন্যদিকে সেই আন্দোলনের নামে সড়কে হাজার হাজার গাড়ি নামিয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি পুড়িয়ে মহাসড়কে জনভোগান্তি বাড়ানো হচ্ছে। এটি কেবল স্ববিরোধী আচরণই নয়, বরং সরাসরি জনস্বার্থের পরিপন্থী।”
কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, “লংমার্চের এই তেল ও গ্যাস অপচয়ের কারণে যদি চলমান সংকট আরও ঘনীভূত হয়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়, তবে জনগণের মনে সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠবে—আপনারা কি প্রকৃত সমস্যার টেকসই সমাধান চান, নাকি জাতীয় সংকটকে পুঁজি করে ঘোলা পানিতে রাজনৈতিক মাছ শিকার করতে চান?”
সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে একটি বিশাল ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা তারাকান্দার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।
পরবর্তীতে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অংশ হিসেবে ময়মনসিংহে জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দল আয়োজিত অপর এক আলোচনা সভায়ও প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে বক্তব্য রাখেন সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।