ভুল পথে চালালে সরকারকে টেনে নামাতে হাত কাঁপবে না: মামুনুল হক
নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান সরকার জনগণের সাথে স্পষ্ট প্রতারণা করেছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “ক্ষমতার মসনদে বসে যদি জাতিকে ভুল পথে পরিচালিত করার বিন্দুমাত্র চেষ্টা করা হয়, তবে সেই মসনদ থেকে টেনে নামাতে আমাদের হাত এক চুলও কাঁপবে না।”
আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ৭টায় রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচারসহ ৬ দফা দাবিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জনগণের অধিকার আদায়ের এই ঐতিহাসিক অভিযাত্রায় পথে কোনো ধরনের বাধা এলে তা মোকাবিলা করেই আমরা কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাব। ১৮ কোটি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে কোনো শক্তিকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।”
সরকারকে সতর্ক করে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, “এই লংমার্চ কোনো দলের একার নয়, এটি দেশের আপামর মেহনতি জনতার কর্মসূচি। পথে যদি সরকার বা তাদের দলীয় ক্যাডাররা বাধা সৃষ্টির দুঃসাহস দেখায়, তবে সব বাধা উপড়ে ফেলে জনস্রোত চট্টগ্রামে পৌঁছাবে। আর তখন ১১ দলের ঘোষিত ৬ দফা দাবি সরাসরি সরকার পতনের ‘এক দফা’ আন্দোলনে রূপ নেবে।”
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “বিদ্যমান নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ও সীমাহীন গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। গণভোটের স্পষ্ট রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং তাদের দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। অবিলম্বে সংসদে দাঁড়িয়ে সরকারকে নিজেদের এই ভুল স্বীকার করতে হবে এবং দ্রুত সংবিধান সংস্কারের দৃশ্যমান উদ্যোগ নিতে হবে।”
বর্তমান সরকারের ছয় মাসের মূল্যায়ন তুলে ধরে তীব্র সমালোচনা করেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, “দেড়শ টাকার লাঞ্চের সস্তা গল্প আর ৫০ হাজার পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ছাড়া বিগত ছয় মাসে এই সরকারের উল্লেখ করার মতো কোনো বাস্তব সাফল্য নেই। ৩১ দফার চমকপ্রদ স্বপ্ন দেখানো ও জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসা দলের এহেন কার্যক্রমে দেশের মানুষ ইতোমধ্যে গভীরভাবে হতাশ হয়ে পড়েছে।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যারা ক্ষমতায় এসে ঐতিহাসিক গণভোটের গণরায় পাশ কাটিয়ে যায়, গ্যাস-বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর ওয়াদা বরখেলাপ করে দফায় দফায় দাম বৃদ্ধি করে এবং দলীয়করণের বিরুদ্ধে কথা বলে প্রশাসনজুড়ে নজিরবিহীন দলীয়করণ চালায়—জনগণ কীভাবে তাদের বিশ্বাস করবে?”
শাপলা চত্বরে সমাবেশ শেষে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে শত শত যানবাহনের বিশাল বহর নিয়ে লংমার্চটি আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার, ফেনীর মহীপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ধারাবাহিক পথসভা শেষে আজ সন্ধ্যায় বন্দরনগরীর লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য বিশাল জনসভার মাধ্যমে এই লংমার্চের প্রথম দিনের কর্মসূচি সমাপ্ত হওয়ার কথা রয়েছে।