লংমার্চে বাধা দিলে মোকাবিলা করেই চট্টগ্রাম পৌঁছাব :জামায়াত আমির

প্রকাশ: শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ণ
লংমার্চে বাধা দিলে মোকাবিলা করেই চট্টগ্রাম পৌঁছাব :জামায়াত আমির
মতিঝিল শাপলা চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: জনগণের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ঢাকা-চট্টগ্রাম রোড লংমার্চে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা বাধা এলে তা সাহসিকতার সাথে মোকাবিলা করেই গন্তব্যে পৌঁছানো হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “জনগণের ন্যায্য অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ৭টায় রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে ঐতিহাসিক গণভোটের গণরায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচারসহ ঘোষিত ৬ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৃহৎ এই রাজনৈতিক কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক আয়োজন করে ১১ দলীয় রাজনৈতিক ঐক্য।

সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা কোনো নির্দিষ্ট দল, ব্যক্তি বা কায়েমি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য রাজপথে নামিনি। আমরা রাজপথে দাঁড়িয়েছি বাংলাদেশের ১৮ কোটি সাধারণ মানুষের অধিকারের পক্ষে। জনগণের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত দাবি আদায়ই আমাদের এই ঐতিহাসিক যাত্রার মূল লক্ষ্য।”

পূর্বঘোষিত ৬ দফা দাবির সাথে আরও একটি নতুন ও কঠোর অঙ্গীকার যুক্ত করার কথা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “কোনো চাঁদাবাজ, লুটেরা এবং দুর্নীতিবাজের অস্তিত্ব স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা কিছুতেই বরদাস্ত করব না।”

বিদ্যমান নাগরিক দুর্ভোগ তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “চাঁদাবাজদের বেপরোয়া দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। দুর্নীতিবাজদের সিন্ডিকেটের কাছে দেশের আপামর জনতার অধিকার লুণ্ঠিত। বাসা-বাড়িতে গ্যাস নেই, পানি নেই, কারখানা ও গ্রাহক পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নেই; কিন্তু মাসের শেষে ঠিকই গ্যাসের অস্বাভাবিক বিল দিতে হচ্ছে এবং বিদ্যুতের অবাস্তব ভুতুড়ে বিল চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”

সামাজিক মাধ্যমে সোচ্চার হওয়া সিফাত নামের এক তরুণের সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “চরম ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ হয়েই ওই তরুণ ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। তাঁর ব্যবহৃত ভাষা সমর্থনযোগ্য না হলেও তিনি যে চরম বাস্তব সত্য ও সংকটের প্রতিবাদ করেছেন, সেই বিষয়ে দেশের ১৮ কোটি মানুষ প্রয়োজন হলে একেকজন ‘সিফাত’ হয়ে রাজপথে গর্জে উঠবে।”

আটক সিফাতকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে তিনি প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, “ওকে ভালোয় ভালোয় দ্রুত ছেড়ে দিন। যদি মুক্তি না দেন, তবে দেশের অতীত ইতিহাস স্মরণ রাখবেন—এক নূর হোসেন, এক ইয়াসমিন কিংবা এক ডাক্তার মিলনের রক্ত কিন্তু বহু প্রতাপশালী শাসকের মসনদ তাসের ঘরের মতো উলটপালট করে দিয়েছিল। কখন যে পচা শামুকে পা কাটে, তা অগ্রিম কেউ বলতে পারে না।”

লংমার্চের যাত্রা শুরুর মুহূর্তে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জনগণের ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠার শপথ পূরণ করতেই আমাদের এই কাফেলা যাত্রা শুরু করছে। চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের চলার পথে যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা আসে, তবে আমরা তা রাজপথেই মোকাবিলা করব। আমরা লড়াই করতেই রাজপথে নেমেছি। ইনশাআল্লাহ কোনো বাধাকেই আমরা পরোয়া করব না, গন্তব্যে পৌঁছাবই।”

আন্দোলনের ধারাবাহিকতা নিয়ে তিনি ঘোষণা দেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত ১৮ কোটি মেহনতি মানুষের প্রতিটি সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা না হবে, ততক্ষণ আমাদের এই সংগ্রাম যুগপৎভাবে রাজপথে যেমন চলবে, তেমনই জাতীয় সংসদের ভেতরেও সমান্তরালে অব্যাহত থাকবে।”

সকাল ৭টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়। এতে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।

উল্লেখ্য, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে এই লংমার্চের অংশ হিসেবে মহাসড়কের পূর্বনির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ধারাবাহিক পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে প্রথমটি নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজের কাছে ট্রাকস্ট্যান্ডে, পরবর্তীতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল মোড় এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের লালদীঘি ঐতিহাসিক ময়দানে বিশাল জনসভার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই লংমার্চের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।

মন্তব্য করুন