এআই ব্যবহারে পরিমিত হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫১ অপরাহ্ণ
এআই ব্যবহারে পরিমিত হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

অনলাইন ডেস্ক: জনকল্যাণে আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ন্যানো ও জৈব প্রযুক্তি এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে উন্নত গবেষণা ও নতুন নতুন উদ্ভাবনে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে এর পাশাপাশি এআই প্রযুক্তি যেন কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণহীন বা যথেচ্ছভাবে ব্যবহৃত না হয়, সে ব্যাপারে কঠোর সচেতনতা অবলম্বনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে দেশের প্রযুক্তি খাতের নানা দিক তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনিয়ন্ত্রিত ও মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার ধীরে ধীরে মানুষের মৌলিক চিন্তাশক্তি ও সহজাত সৃজনশীল প্রতিভাকে হ্রাস করছে। তাই এআই-এর ব্যবহার অত্যন্ত পরিমিত ও সচেতনভাবে হওয়া প্রয়োজন, যাতে মানবজাতির স্বকীয় সৃজনশীলতা বজায় থাকে। জনকল্যাণে প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এআই যেন সমাজের ওপর নিয়ন্ত্রণহীন নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়ে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে কুয়েটের উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা, প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অবহিত করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রমের অগ্রগতি শুনে রাষ্ট্রপতি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দেশের উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা কেবল রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে বা বিকেন্দ্রীকরণের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন গবেষণা ও উন্নয়ন (আরএন্ডডি) কর্মকাণ্ডে দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি প্রযুক্তিপ্রেমীদের আধুনিক ডিজিটাল দক্ষতার পাশাপাশি ন্যানোটেকনোলজি, বায়োটেকনোলজি ও সেমিকন্ডাক্টর গবেষণায় বিশ্বমানের উদ্ভাবন নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।

সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে কুয়েটের আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্য হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ। রাষ্ট্রপতি আন্তরিকতার সঙ্গে সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় বঙ্গভবনের সামরিক সচিব, প্রেসসচিব ও সংশ্লিষ্ট সচিবগণ সহ কুয়েটের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন