কেজিএফের নির্বাহী পরিচালক পদে ফল প্রকাশের দাবি
অনক আলী হোসেন শাহিদী: কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন (কেজিএফ)-এর নির্বাহী পরিচালক পদে নিয়োগ পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ার পরও ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি শূন্যপদের বিপরীতে চারজন যোগ্য প্রার্থী গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। এখন তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন করবে।
নির্বাহী পরিচালক পদে অংশ নেওয়া চার প্রার্থী হলেন— ড. মো. আব্দুছ ছালাম, ড. মুহাম্মদ খালেকুজ্জামান, ড. মো. আতাউর রহমান এবং ড. ফেরদৌসী ইসলাম।
নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের মধ্যে ছিলেন প্রফেসর ড. জহিরুল করিম, সাবেক সচিব; কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. ইব্রাহিম খলিল; কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং কেজিএফের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ড. নাথুরাম শিকদার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, পরীক্ষা শেষে পরীক্ষকদের মাধ্যমে প্রার্থীদের ফলাফল যথাযথ প্রক্রিয়ায় সিলগালা অবস্থায় কেজিএফ কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ পরীক্ষা গ্রহণ ও উত্তরপত্র/ফলাফল সংরক্ষণের প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য পরিচালনা কমিটির অনুমোদন এখনো প্রয়োজন।
এদিকে, ৯ সেপ্টেম্বর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর গত ১৮ সেপ্টেম্বর ফলাফল ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের বিষয়ে আলোচনা করতে কেজিএফের পরিচালনা কমিটির সভা আহ্বান করা হয়েছিল। তবে সভার একদিন আগে, ১৭ সেপ্টেম্বর অনিবার্য কারণ দেখিয়ে সভাটি স্থগিত করা হয়। ফলে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের বিষয়টিও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে কেজিএফের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ড. নাথুরাম শিকদার বলেন, “সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকগণ পরীক্ষার্থীদের ফলাফল যথাযথ প্রক্রিয়ায় সিলগালা অবস্থায় কেজিএফ দপ্তরে জমা রেখেছেন। কেজিএফের নির্বাহী কমিটির পরবর্তী সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।”
কেজিএফের সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, পরীক্ষার ফলাফল এখন নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী চার প্রার্থী দ্রুত ফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তারা প্রক্রিয়ার ফলাফল মেনে নেওয়ার অবস্থান ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছেন। তাই ফলাফল প্রকাশে অযথ বিলম্ব না করে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানানো উচিত।
পরীক্ষার্থীরা বলেন, “ফলাফল যাই হোক, আমরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ফলাফল মেনে নিয়েছি। আমরা অবিলম্বে ফলাফল প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।”
তাদের মতে, একটি নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ফলাফল প্রকাশ না হলে স্বাভাবিকভাবেই পরীক্ষার্থীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়। তাই নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার স্বার্থে দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করা প্রয়োজন।
কেজিএফের নির্বাহী কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের নির্বাহী চেয়ারম্যান। কমিটিতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক, এসিআই অ্যাগ্রোবিজনেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. এফএইচ আনসারী, মেটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সাদিদ জামিল এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের একজন মনোনীত প্রতিনিধি রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাতেই নির্বাহী পরিচালক পদে নিয়োগের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।
কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন দেশের কৃষি গবেষণা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, প্রতিযোগিতামূলক ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে ২০০৭ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠা করে। প্রচলিত সাধারণ অনুদান ব্যবস্থার পরিবর্তে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মানসম্মত গবেষণা প্রস্তাব নির্বাচন ও অর্থায়নের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম শুরু করে।
কেজিএফ মূলত প্রতিযোগিতামূলক গবেষণা অনুদান প্রদান, অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতামূলক গবেষণা, গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বহু-প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা এবং প্রযুক্তি ও নীতি বাস্তবায়নে ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশের খাদ্য ও কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা ও অর্থায়ন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীরা। তাদের প্রত্যাশা, পরীক্ষার ফলাফল যেহেতু যথাযথ প্রক্রিয়ায় সিলগালা অবস্থায় কেজিএফ কার্যালয়ে সংরক্ষিত রয়েছে, সেহেতু পরিচালনা কমিটির পরবর্তী সভায় বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে নিষ্পত্তি করা হবে।
বিশেষ করে পরীক্ষা গ্রহণের পর ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘসূত্রতা যেন তৈরি না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। তাদের মতে, দ্রুত ফলাফল প্রকাশ হলে একদিকে পরীক্ষার্থীদের অপেক্ষার অবসান হবে, অন্যদিকে কেজিএফের নির্বাহী পরিচালক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়াও পরবর্তী পর্যায়ে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, কেজিএফের নির্বাহী কমিটি পরবর্তী সভায় নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল ও প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে এবং পরীক্ষার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাবে। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা বজায় রাখতে ফলাফল প্রকাশের বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশাই এখন চার পরীক্ষার্থীর।
এআইএল/সকালবেলা