সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে মৌসুমি বায়ু, বাড়বে বৃষ্টিপাত
আজ সোমবার (৮ জুন) দুপুর ১২টা ২৩ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘প্রকৃতি ও পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ সতর্কীকরণ’ এবং ‘বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বুলেটিন, মৌসুমি বায়ু ট্র্যাকিং ও রেইনফল মনিটরিং উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে আগামী ৫ দিনের আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে আজ সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টা বা ৫ দিনের যে বিশেষ পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে—বর্তমানে একটি সিনপটিক লঘুচাপের বর্ধিতাংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে শুরু করে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর (Bay of Bengal) পর্যন্ত বিস্তৃত অবস্থায় বিরাজ করছে। এর ফলে সমুদ্র থেকে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। ইতিমধ্যেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের বরিশাল, চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগ পর্যন্ত সফলভাবে অগ্রসর হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা স্পষ্ট করেছেন যে, আগামী ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে এই মৌসুমি বায়ু দেশের বাকি অংশ তথা ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও রংপুর বিভাগেও পুরোপুরি বিস্তার লাভ করার জন্য বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা সম্পূর্ণ অনুকূলে রয়েছে।
মৌসুমি বায়ুর এই সক্রিয় অবস্থানের কারণে আজ সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং সেই সাথে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের প্রধান প্রধান নদী অববাহিকা ও পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী (২২-৪৩ মিলিমিটার) থেকে ভারী (৪৪-৮৮ মিলিমিটার) বর্ষণ হতে পারে। এই বৃষ্টির প্রভাবে সারা দেশে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, যা জনজীবনে দীর্ঘদিনের গরমের ধকল থেকে বড় ধরণের স্বস্তি এনে দেবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর তাদের দীর্ঘমেয়াদি ও বর্ধিত ৫ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বিশেষভাবে সতর্ক করে জানিয়েছে যে, এই সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে মৌসুমি বায়ু যখন সারা দেশের ওপর শতভাগ সক্রিয় হয়ে উঠবে, তখন বৃষ্টিপাতের তীব্রতা ও প্রবণতা আরও বহুগুণ বাড়তে পারে। বিশেষ করে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ধস বা আকস্মিক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার চাষী ও সাধারণ জনগণকে আবহাওয়া বার্তার দিকে সার্বক্ষণিক নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জান্নাত সকালবেলা