শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিলের চিন্তাভাবনা  করছে সরকার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ
শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিলের চিন্তাভাবনা  করছে সরকার
শিক্ষা মন্ত্রণালয়

সদ্য ঘোষিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় শতভাগ ফেল বা ‘শূন্য পাস’ করা ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ও নজিরবিহীন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ইতিমধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জবাব অসন্তোষজনক হলে এবং টানা দুবার বা তার বেশি কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এমপিও (মান্থলি পে অর্ডার) বাতিল করার চূড়ান্ত চিন্তা করছে সরকার।

গত শনিবার প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, এবার পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ফলাফলের এই ভরাডুবির সাথে সাথে বেড়েছে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের তালিকাও। এ বছর ২৯৩টি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি, যা গত বছরের ২০২টির তুলনায় ৯১টি বেশি। ২০২১ সালে শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল মাত্র ৫টি; অর্থাৎ মাত্র ৬ বছরের ব্যবধানে এ জাতীয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ২৯১টি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শতভাগ ফেল করা বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই কাগুজে এবং উত্তরবঙ্গে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। পর্যাপ্ত শিক্ষক ও পরিকাঠামো থাকলেও প্রয়োজনীয় শিক্ষার্থী নেই কিংবা ভবন থাকলেও এমপিওর আশায় বিনাবেতনে অপেশাদার শিক্ষক দিয়ে চালানো হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। উদাহরণস্বরূপ, নওগাঁর পত্নীতলা সরকারি টেকনিক্যাল কলেজের ১০ জন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেননি, যেখানে শিক্ষক রয়েছেন ১৭ জন! একইভাবে নেত্রকোনার ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজ, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ফকিরহাট মহিলা কলেজ ও সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ী মহিলা কলেজের ফলাফলও শূন্য।

এই সার্বিক পরিস্থিতিতে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি স্পষ্ট করেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে মাশরুমের মতো গড়ে ওঠা কলেজগুলো রাতারাতি বন্ধ না করে পাশের ভালো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত বা পুনর্বিন্যাস করা হবে। তবে এতে কোনো শিক্ষকের চাকরি হারানোর ঝুঁকি নেই বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানান, “শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের বিগত ৫ বছরের পাসের হার, পরীক্ষার্থী ও শিক্ষকের বিস্তারিত তথ্যসহ শোকজের জবাব দিতে বলা হচ্ছে। এক সপ্তাহের মধ্যে পর্যালোচনা শেষে আইনানুগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।”

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দুবারের বেশি শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিল করা হবে এবং নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিওভুক্তি স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা হতে পারে।