মিরপুরে আবারও শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, বন্ধ মেট্রোরেল স্টেশন

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০৬ অপরাহ্ণ
মিরপুরে আবারও শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, বন্ধ মেট্রোরেল স্টেশন
মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সাথে পুলিশের তুমুল সংঘর্ষ

ন্যূনতম মূল মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে রাজধানীর মিরপুর। আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) সকাল থেকে আবারো রাজপথে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে পুলিশের বাধা অতিক্রম করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, টিয়ার গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের প্রধান সড়কে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই পল্লবী শিল্পাঞ্চল ও সংলগ্ন বিভিন্ন পোশাক কারখানার সামনে হাজার হাজার শ্রমিক জড়ো হতে থাকেন। তাদের অনেকের হাতে লাঠিসোঁটা ছিল। শ্রমিকেরা সংঘবদ্ধ হয়ে মিছিল নিয়ে প্রধান সড়কে ওঠার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাধার সৃষ্টি করে। এ সময় আন্দোলনকারীরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন দিক থেকে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ নিলে পুলিশ বাধ্য হয়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাসের শেল এবং একের পর এক সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটায়।

সংঘর্ষ সরাসরি মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের ঠিক নিচে ছড়িয়ে পড়ায় অনেক পথচারী ও মেট্রোর যাত্রীরা ভেতরে আটকা পড়েন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই স্টেশনে ট্রেন থামানো এবং যাত্রী ওঠানামা সম্পূর্ণ স্থগিত রাখা হয়।

এমআরটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে, সকাল থেকেই মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে পোশাক শ্রমিকদের অসন্তোষ সহিংস রূপ নেয়। স্টেশনের কাঠামোগত সুরক্ষা ও সার্বিক যাত্রী নিরাপত্তার নিশ্চিতকল্পে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মজুরি পুনর্নির্ধারণের দাবিতে গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) থেকে মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বর সেকশনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে আসছেন পোশাক শ্রমিকরা। গত রবিবার সংঘর্ষকালে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর এবং আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। গতকাল সোমবার পুলিশের ধাওয়ায় আন্দোলন সাময়িক স্তিমিত হলেও আজ মঙ্গলবার সকালে পুনরায় সহিংসতা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল।