কোথায় আছে বেনজির ? জানতে ইন্টারপোলকে চিঠি
নিজস্ব প্রতিবেদক: মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার অন্যতম আসামি সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।
গতকাল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) শাখা থেকে ইন্টারপোলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক ই-মেইল বার্তা পাঠিয়ে তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে।
দুবাই থেকে কারামুক্তির পর বেনজীর আহমেদ ক্যারিবীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র সেন্ট লুসিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন বলে সম্প্রতি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করতে পুলিশ এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, “ইন্টারপোলের কাছে পুলিশ সদর দপ্তরের এনসিবি থেকে একটি আনুষ্ঠানিক ই-মেইল পাঠানো হয়েছে। সেখানে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে সুস্পষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের আনুষ্ঠানিক সত্যতা যাচাই করাও জরুরি।”
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, দুবাই কারাগার থেকে মুক্তির পর গত ১৭ আগস্ট সেখান থেকে সেন্ট লুসিয়ায় পাড়ি জমান বেনজীর। দেশটিতে তাঁর পূর্ব থেকেই নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট রয়েছে এবং সেখানে তাঁর উল্লেখযোগ্য যৌথ বিনিয়োগও রয়েছে। এমনকি সেন্ট লুসিয়ার গ্রোস আইসলেট এলাকায় তাঁর নিজস্ব একটি অভিজাত ফ্ল্যাট রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ও আইনি সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই দুবাইয়ের একটি আদালত থেকে জামিন পান বেনজীর আহমেদ। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ৩০ জুলাই তিনি কারাগার থেকে মুক্ত হন। এর আগে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করে দুবাইয়ের আদালতে উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত কিছু নির্দিষ্ট শর্তে তাঁকে জামিন মঞ্জুর করেন।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, বেনজীরের জামিন নিশ্চিত করতে ইউরোপে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতা দুবাই প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে তদবির চালান। দুবাই আদালত থেকে তাঁর জামিন ও মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই ঢাকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তৎপরতা শুরু হয় এবং কূটনৈতিক চ্যানেলে দুবাই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে সেখান থেকে তাৎক্ষণিক ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র জানায়, জামিন পাওয়ার পর থেকেই বেনজীর আহমেদ অপেক্ষাকৃত নিরাপদ কোনো রাষ্ট্রে আশ্রয় নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে স্পেনসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনায় নিলেও নিরাপত্তা ও প্রত্যর্পণ জটিলতা এড়াতে শেষ পর্যন্ত তিনি সেন্ট লুসিয়াকেই বেছে নেন।
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত সাবেক এই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার গতিবিধি নিয়ে গণমাধ্যমে তথ্য প্রকাশের পর ইন্টারপোলকে যুক্ত করল বাংলাদেশ পুলিশ। এখন আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থাটির আনুষ্ঠানিক বার্তার মাধ্যমেই তাঁর প্রকৃত অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।