কয়েক মাসের মধ্যে সংসদ চলবে সৌরবিদ্যুতে: অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী
আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই জাতীয় সংসদ ভবনকে পূর্ণাঙ্গ সোলার সিস্টেমের (সৌরবিদ্যুৎ) আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করেছেন, জাতীয় সংসদের দৈনন্দিন বিদ্যুতের সিংহভাগ চাহিদা অভ্যন্তরীণ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকেই পূরণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনের নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারদলীয় ও বিরোধী সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার উৎসাহিত করতে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দেশে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সামগ্রিক খরচ জনসাধারণের নাগালের মধ্যে রাখতে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারিসহ সংশ্লিষ্ট অত্যাবশ্যক পণ্যের ওপর প্রযোজ্য কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর এবং ২ শতাংশ অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর থেকে শর্ত সাপেক্ষে পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ইতিমধ্যে গত ৮ জুন এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
গ্রাহকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করে তারেক রহমান বলেন, “আগামী ছয় মাসের মধ্যে যারা নিজেদের বাসা-বাড়ি বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানে রুফটপ সোলার (ছাদে সৌর প্যানেল) স্থাপন করবেন এবং উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ (নেট মিটারিং) করবেন, সরকার তাঁদের কাছ থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১০ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারিত দরে সরাসরি ক্রয় করবে। প্রচলিত বাল্ক রেটের চেয়ে অতিরিক্ত এই বাড়তি অর্থ মূলত উদ্যোক্তাদের সরকার প্রণোদনা হিসেবে প্রদান করবে।”
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, “বর্তমানে আধুনিক রুফটপ সোলার থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড়ে খরচ হয় প্রায় ৬ থেকে ৭ টাকা। ফলে সরকারের এই নির্ধারিত দরে বিদ্যুৎ বিক্রি করলে উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত নিশ্চিত মুনাফা অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ পাবেন। এই সুবিধা আগামী ছয় মাসের মধ্যে স্থাপিত প্রকল্পগুলোর জন্য পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে বলবৎ থাকবে।”
সরকারি পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তারের রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সব সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনার ছাদে সৌর প্যানেল বসাতে ‘জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি’ গ্রহণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচি দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে বিশেষ বাজেট বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের সব জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়গুলোর ছাদে দ্রুততম সময়ে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের কাজ চলছে।
জ্বালানি নিরাপত্তার স্থায়ী সমাধান নিয়ে তারেক রহমান বলেন, “দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে টেকসই ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে সরকার আগামী ১০ বছর মেয়াদি একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। বর্তমানে এ সংক্রান্ত কারিগরি ও অর্থনৈতিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার চূড়ান্ত কাজ চলছে। অচিরেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী জাতীয় সংসদে সেই পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করবেন।”