ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন ‘সিনিয়র মাদ্রাসা ও অমানুষদের জায়গা’: এমপি ফজলুর রহমান

প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৮ অপরাহ্ণ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন ‘সিনিয়র মাদ্রাসা ও অমানুষদের জায়গা’: এমপি ফজলুর রহমান
এমপি মো. ফজলুর রহমান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনিক ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে এক বিস্ফোরক ও কঠোর মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সংসদ সদস্য এবং দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মো. ফজলুর রহমান। বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ‘সিনিয়র মাদ্রাসা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে শিক্ষার্থীদের ভর্তি হওয়া কিংবা শিক্ষকদের অধ্যাপনা করার আদৌ কোনো যৌক্তিকতা রয়েছে কি না।

গতকাল শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বক্তব্যের শুরুতেই ঢাবির গুণগত মান নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করে আইনজীবী ও সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন আর কীসের পড়াশোনা হয়, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে অমানুষদের একটা জায়গায় পরিণত হয়েছে। সেখানে প্রফেসারি বা শিক্ষকতা করারও বিশেষ কোনো প্রয়োজন আছে কি না, সে বিষয়েও আমি চিন্তিত।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোনালী দিন এবং ঐতিহাসিক অবদান স্মরণ করে ছাত্রলীগের সাবেক এই সভাপতি বলেন, একসময় শিক্ষা, সাহিত্য, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দেশের অনন্য ও কালজয়ী ব্যক্তিত্বদের তৈরি করেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। অতীতে আব্দুল ওহাব, আবুল হোসেন, জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, মুজাফফর আহমদ চৌধুরী, নীলিমা ইব্রাহিম, ড. নাজমা চৌধুরী, আহমদ শরীফ, প্রথাবিরোধী লেখক হুমায়ুন আজাদ এবং জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মতো গুণী মানুষদের জন্ম দিয়েছিল এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ।

তবে অতীত গৌরবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আফসোস করে জানান, সেই মহান ঐতিহ্য থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে অনেকটাই বিচ্যুত ও পথভ্রষ্ট হয়েছে। ঢাবি ক্যাম্পাস এখন মূলত স্বাধীনতাবিরোধী মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিদের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

ক্যাম্পাসে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতাদের প্রসঙ্গ টেনে ফজলুর রহমান ক্ষোভের সাথে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে গোলাম আযম ও মতিউর রহমান নিজামীর ছবি টাঙানো ও প্রদর্শনের মানসিকতা তৈরি করা হয়েছে। যে প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ব্যক্তিদের ছবি টাঙিয়ে নেতার মর্যাদা দেওয়া হয়, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক চিন্তা করার আর কোনো সুযোগ নেই।”