যশোর বোর্ডে এইচএসসি পাসের হার ৪৪.৯২%, বেশি ফেল ইংরেজিতে

প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৯ অপরাহ্ণ
যশোর বোর্ডে এইচএসসি পাসের হার ৪৪.৯২%, বেশি ফেল ইংরেজিতে
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। বোর্ডের অধিনস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে এ বছর মোট ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) বোর্ড কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর ডক্টর মোহাম্মদ আব্দুল মতিন।

বোর্ডের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর পরীক্ষার জন্য নিবন্ধিত মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ৫১০ জন। তাদের মধ্যে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষা চলাকালে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ৪৩ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। সার্বিক মূল্যায়নে মোট উত্তীর্ণ হয়েছে ৫০ হাজার ৬৬৮ জন শিক্ষার্থী।

প্রকাশিত ফলাফলে জিপিএ-৫ অর্জন এবং পাসের হার—দুই সূচকেই ছেলেদের পেছনে ফেলে বড় সাফল্য দেখিয়েছে মেয়েরা। এ বছর জিপিএ-৫ পাওয়া ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রী ১ হাজার ৮৭০ জন এবং ছাত্র ১ হাজার ৩৫৮ জন। অর্থাৎ ছাত্রীদের জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ৩.২৩ শতাংশ হলেও ছেলেদের ক্ষেত্রে এই হার ২.৪৮ শতাংশ।

একইভাবে পাসের হারেও এগিয়ে ছাত্রীরা। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫৭ হাজার ৯৮০ জন ছাত্রীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৯ হাজার ১৬৬ জন, যার পাসের হার ৫০.৩০ শতাংশ। বিপরীতে ৫৪ হাজার ৮১১ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছে ২১ হাজার ৫০২ জন; ছেলেদের পাসের হার ৩৯.২৩ শতাংশ। এতে দেখা যাচ্ছে, পাসের হারে ছেলেদের চেয়ে ছাত্রীরা ১১.০৭ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে।

বিভাগভিত্তিক ফলাফল ও কলেজের চিত্র: বিভাগভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতিবারের মতো এবারও বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে ভালো ফল করেছে।

  • বিজ্ঞান বিভাগ: মোট ২১,৬৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৫,১৬৭ জন (পাসের হার প্রায় ৭০%)।

  • ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ: ১২,১১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫,৩১০ জন (পাসের হার ৪৩.৮৩%)।

  • মানবিক বিভাগ: ৭৯,০১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩০,১৯১ জন (পাসের হার ৩৮.২১%)।

চলতি বছর যশোর বোর্ডের অধীনে থাকা ১৬টি কলেজে শতভাগ ফেল বা পাসের হার শূন্য দাঁড়িয়েছে, অর্থাৎ কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। অন্যদিকে শতভাগ পাস করেছে মাত্র তিনটি কলেজে।

ইংরেজিতে ফলাফলের বিপর্যয় প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর ডক্টর মোহাম্মদ আব্দুল মতিন জানান, এই বোর্ডে ইংরেজিতে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ফেল করেছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইংরেজি বিষয়ের জন্য নির্ধারিত ও স্থায়ী শিক্ষক নেই; অন্য বিষয়ের শিক্ষকেরা ক্লাস নিয়ে থাকেন। শিক্ষক সংকটই সার্বিক ফল খারাপ হওয়ার অন্যতম মূল কারণ।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম হোসেন আলীর সই করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রকাশিত ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন করা যাবে।