তাহসিফ হত্যা মামলায় বন্ধু দীপের ৭ দিনের রিমান্ড চাইবে নৌপুলিশ
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বাবার দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করবে নৌপুলিশ।
আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে আসামি দীপকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। নৌপুলিশ নিশ্চিত করেছে, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত প্রাঙ্গণে তার ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।
এর আগে তাহসিফের বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম রাজধানীর উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় তাহসিফের ব্যবসায়িক অংশীদার ও ঘনিষ্ঠ ছোটভাই দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শুক্রবার মধ্যরাতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাকে নৌপুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে। তার আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসা থেকে তাকে হেফাজতে নিয়েছিল পিবিআই।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, নিখোঁজ হওয়ার ঠিক পূর্বে তাহসিফের সঙ্গে টানা প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় অতিবাহিত করেছিলেন দীপ। গতকাল শুক্রবার পিবিআইয়ের একটি দল আসামি দীপকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকার তুরাগ নদসংলগ্ন বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের আশপাশে সরেজমিন তদন্ত চালায়। তখন তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্থানটি থেকে একটি নম্বরপ্লেটবিহীন কালো রঙের ‘সুজুকি জিক্সার ১৫০’ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, ঘটনার রাতে তিনি ও তাহসিফ ওই এলাকায় কথা বলছিলেন। তখন হঠাৎ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক পরা দুজনসহ কয়েকজন লোক তাদের ধাওয়া দেন। ভয়ে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন এবং দীপ সীমানা পিলারের আড়ালে লুকিয়ে পড়েন।
তবে পিবিআই ও নৌপুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার আগের ও পরের সময়ক্রম নিয়ে দীপের দেওয়া তথ্যে মারাত্মক অমিল ও অসঙ্গতি রয়েছে। পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, দীপ অত্যন্ত এলোমেলো তথ্য দিচ্ছে এবং তার কথা সরাসরি বিশ্বাস না করে পুলিশ তথ্য যাচাই-বাছাই করছে। মূলত তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং অন্য কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতেই দীপকে রিমান্ডে নিতে চায় নৌপুলিশ।