ভুয়া দক্ষতা সনদ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

ভুয়া দক্ষতা সনদ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের জাল ও ভুয়া সনদের ব্যবহার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির চাহিদা অনেক হলেও সনদ জালিয়াতি ও প্রতারণার কারণে কর্মীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর এটি ছিল এনএসডিএর গভর্নিং বডির দ্বিতীয় সভা।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এনএসডিএ একটি কার্যকর ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, চাকরিদাতারা যদি আস্থা হারিয়ে ফেলেন, তাহলে দক্ষতা উন্নয়নের সব উদ্যোগই ব্যর্থ হবে। তাই সনদ জালিয়াতি যেকোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে।

দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিদেশি চাকরিদাতারা যেন আস্থার সঙ্গে বলতে পারেন—বাংলাদেশ থেকে আসা কর্মীরা মানসম্মত ও দক্ষ।

প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, এনএসডিএ সব প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে অভিন্ন মানের সনদব্যবস্থা চালুর যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা ভুয়া সনদ রোধে বড় ভূমিকা রাখবে। তিনি তরুণ প্রজন্মকে সৃজনশীল ও সম্ভাবনাময় উল্লেখ করে বলেন, তাদের জন্য সুযোগের দরজা খুলে দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের স্বচ্ছ ও কার্যকর ভূমিকার ওপরও জোর দেন তিনি।

সভায় আগের সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং একটি সমন্বিত দক্ষতা ইকোসিস্টেম গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অভিন্ন কারিকুলাম ও মানদণ্ড নিশ্চিত করা যাবে। এতে একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে সনদের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে, অন্যদিকে সরকারি অর্থের অপচয় কমবে এবং শিল্পখাতের শ্রমচাহিদা অনুযায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে।

এছাড়া এলডিসি থেকে উত্তরণ পরবর্তী বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এনএসডিএর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—উদীয়মান খাতে স্কিলস গ্যাপ বিশ্লেষণ, সব উন্নয়ন প্রকল্পকে এনএসডিএর কারিকুলাম ও মানদণ্ডের আওতায় আনা, বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের পূর্ব অভিজ্ঞতার স্বীকৃতির মাধ্যমে সনদের আওতায় আনা।

সভায় নৌপরিবহন ও শ্রম উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, শিল্প ও গৃহায়ন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিডা নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুণ, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন