বাংলাদেশের মতো দেশে শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: রুহুল কবির রিজভী

প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের মতো দেশে শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: রুহুল কবির রিজভী
সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতাবিষয়ক সংলাপে বক্তব্য রাখছেন রুহুল কবির রিজভী।

বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ১০০ ভাগ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করা বাস্তবে সম্ভব নয় বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর তোপখানা রোডে অবস্থিত সিরডাপ মিলনায়তনে ‘২০২৬ সালের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা: গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথের ওপর প্রভাব’ শীর্ষক এক আলোচনা সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি) এবং মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিবেশের উদাহরণ টেনে রিজভী বলেন, "আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতেও সব ক্ষেত্রে শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হয় না এবং সেখানে নিয়মিত নির্বাচন কেন্দ্রিক নানা অভিযোগ উত্থাপিত হয়। তবে প্রাতিষ্ঠানিক রীতির কারণে ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত তা সবাই মেনে নেয়।"

গণতান্ত্রিক চর্চাকে মজবুত করতে রাজনৈতিক কাঠামোর ভাষা ও শব্দচয়ন সতর্ক হওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, "সরকার ও বিরোধী দল উভয় পক্ষকেই বক্তব্য প্রদানে সংযত ও দায়িত্বশীল শব্দ প্রয়োগ করতে হবে। তা না হলে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে মারাত্মক সহিংস মনোভাব তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কেবল কঠোর আইনকানুন প্রয়োগ করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়, যদি না আমাদের সার্বিক রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন ঘটে।"

সাম্প্রতিক সময়ে নিজ দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি ও সাংগঠনিক পদক্ষেপের বিবরণ তুলে ধরে বিএনপি নেতা বলেন, "গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে অনৈতিক বা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির অনেক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে বহিষ্কার, অব্যাহতি ও শোকজের মতো কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অতীতে পেশিশক্তি প্রয়োগকারীদের রাষ্ট্রীয় বা দলীয়ভাবে পুরস্কৃত করা হলেও বর্তমান বিএনপি মাস্তান বা দখলদারদের বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দিচ্ছে না।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক দায়িত্ব, যা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

মন্তব্য করুন