যশোরের সেই ঋতু পেলেন জিপিএ-৫
সকালবেলা ডেস্ক: এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে সাধারণ ফলাফলের চিত্র কিছুটা উদ্বেগের হলেও স্বজন হারানোর চরম শোক কাটিয়ে অসামান্য কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে ঋতু খাতুন। ক্যান্সারে আক্রান্ত বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় বসা সেই ঋতু মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। সে যশোরের চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী।
তবে অদম্য মেধাবী হলেও পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবাকে হারিয়ে এখন তার উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ঋতু উপজেলার হাকিমপুর গ্রামের মৃত কবির হোসেন ও রেহেনা খাতুন দম্পতির দুই মেয়ের মধ্যে ছোট।
ঋতুর পরিবার ও বিদ্যালয়সূত্রে জানা যায়, বাবার ক্যান্সার ধরা পড়ার পর চরম মানসিক ও আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়েই তার এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা চলাকালীন কবির হোসেনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ১০ মে ঋতুর 'বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা' পরীক্ষার দিন ভোররাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের হাকিমপুর গ্রাম থেকে চৌগাছা ছারা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে যায় ঋতু। পরীক্ষা কেন্দ্র পৌঁছানো পর্যন্ত ঋতুকে বাবার মৃত্যুর খবর জানতে দেয়নি পরিবার। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে সে বাবার মৃত্যুর খবর জানতে পারে এবং শেষবারের মতো বাবাকে বিদায় জানায়। এরপর চরম শোক বুকে নিয়েই বাকি পরীক্ষাগুলোতে অংশ নেয় সে। সোমবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, সব বাধা অতিক্রম করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ঋতু।
মেধা তালিকার এই ফলাফলের পর আবেগপ্লুত কণ্ঠে ঋতু জানায়, "বাবা বেঁচে থাকলে আজ সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন।" বাবার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া নিয়েও নিজের দুশ্চিন্তার কথা জানায় সে।
হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক শাহানা খাতুন বলেন, "ঋতু অত্যন্ত মেধাবী ও অধ্যবসায়ী। পারিবারিক দারিদ্র্য ও বাবার নির্মম মৃত্যুও তাকে লক্ষ্যচ্যুত করতে পারেনি। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা ও কোনো শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করা গেলে ঋতুর উচ্চশিক্ষার পথ মসৃণ হবে।"
এ বিষয়ে চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলাম জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ঋতুর এই অর্জন অত্যন্ত গর্বের। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অদম্য মেধাবীর পাশে দাঁড়িয়ে তার উচ্চশিক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।
এআইএল/সকালবেলা
|