বুনো মাশরুম খেলে হতে পারে মৃত্যু; সতর্ক করলেন পুষ্টিবিদ

প্রকাশ: বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৫:০০ অপরাহ্ণ
বুনো মাশরুম খেলে হতে পারে মৃত্যু; সতর্ক করলেন পুষ্টিবিদ
লাইফস্টাইল প্রতিবেদক : সারা বিশ্বের ভোজনরসিকদের কাছে মাশরুম একটি অত্যন্ত সুস্বাদু, জনপ্রিয় এবং উচ্চ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার হিসেবে সমাদৃত। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত মাশরুম গ্রহণ করলে তা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে, মানবদেহে টিউমার কোষের বিস্তার রোধ করতে, বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস রোগীদের শর্করা নিয়ন্ত্রণে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং সামগ্রিক হজম ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বাত-ব্যথার মতো জটিল রোগের বিরুদ্ধে দারুণ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তবে পুষ্টির এই বিশাল ভাণ্ডারের সমান্তরালে মাশরুমের রয়েছে এক ভয়াবহ অন্ধকার দিকও। প্রকৃতিতে জন্মানো সব জাতের মাশরুম মানুষের শরীরের জন্য নিরাপদ নয়, বরং না জেনে কিছু বুনো মাশরুম খেলে মানুষের তাৎক্ষণিক মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

আজ বুধবার (৩ জুন) দুপুর ১টা ৩৩ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত (আপডেট: দুপুর ২টা ৭ মিনিট) ‘লাইফস্টাইল’ ও ‘খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান’ বিভাগের এক সচেতনতামূলক বিশেষ প্রতিবেদনে বিষাক্ত মাশরুমের এই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির তথ্য তুলে ধরা হলো।

উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে, প্রকৃতিতে মাশরুমের হাজার হাজার রকমের বৈচিত্র্যময় জাত রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, শুধুমাত্র উত্তর আমেরিকাতেই মাশরুমের ১০ হাজারেরও বেশি প্রজাতি পাওয়া যায়। তবে আশঙ্কার কথা হলো, এই বিশাল সংখ্যার মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ প্রজাতিই মানুষের খাবার হিসেবে গ্রহণের অনুপযোগী এবং তা মানবদেহকে মারাত্মকভাবে অসুস্থ করে দিতে পারে। এমনকি এর মধ্যে থাকা মাত্র ১ শতাংশ প্রজাতি এতটাই বিষাক্ত যে, তা গ্রহণের পর মানুষের তাৎক্ষণিক মৃত্যু ঘটতে পারে।

আমাদের বাংলাদেশে সাধারণত বৈজ্ঞানিক উপায়ে ল্যাবে বা খামারে মাত্র ৮ থেকে ১০টি জাতের মাশরুম বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়ে থাকে, যা সম্পূর্ণ নিরাপদ। কিন্তু এ দেশের আনাচে-কানাচে, বিশেষ করে বর্ষাকালে বা স্যাঁতসেঁতে মাটিতে প্রাকৃতিকভাবে যে অসংখ্য বুনো মাশরুম জন্মায়, সেগুলো অধিকাংশ সময়ই শরীরের জন্য অত্যন্ত বিষাক্ত ও ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।

এই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের প্রখ্যাত অধ্যাপক ড. খালেদা ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মাশরুম শরীরের জন্য সামগ্রিকভাবে ভীষণ উপকারী হলেও সব মাশরুম কিন্তু মানুষের জন্য কল্যাণকর নয়। আমরা প্রতিনিয়ত যে সমস্ত পরিচিত বা চাষকৃত জাতের মাশরুম দেখি, তার বাইরে অন্য কোনো মাশরুম, বিশেষ করে প্রাকৃতিকভাবে গজিয়ে ওঠা বুনো মাশরুম কখনোই আমাদের খাদ্য তালিকায় রাখা উচিত নয়। কারণ এগুলো মানবদেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করতে পারে।”

অধ্যাপক ড. খালেদা ইসলাম আরও সতর্ক করে বলেন, “গ্রামীণ অঞ্চলে বা লোকালয়ে ‘ব্যাঙের ছাতা’ বলে পরিচিত বুনো মাশরুমগুলোতে মূলত এক ধরনের বিশেষ ক্ষতিকর ও বিষাক্ত ছত্রাক থাকে। এই ছত্রাকের উপাদানগুলো মানুষের লিভার (যকৃৎ) এবং কিডনিকে (বৃক্ক) সরাসরি আক্রমণ করে কার্যক্ষমতা নষ্ট বা বিকল করে দিতে পারে।” তাই বাজার থেকে প্যাকেটজাত বা চাষ করা অনুমোদিত মাশরুম ছাড়া যেকোনো প্রকার বুনো মাশরুম খাওয়া থেকে বিরত থাকতে দেশের সাধারণ মানুষকে বিশেষভাবে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন