মেধা ও সংশয়ের সমান্তরাল পথ: ভালো ফলের পরও শঙ্কায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে স্নাতক জীবনের ভালো সিজিপিএ বা ফলাফল একদিকে যেমন স্বস্তি ও স্বীকৃতির নাম, অন্যদিকে তা এক গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরীক্ষার ফলে মেধা তালিকার শীর্ষে অবস্থান করেও অনেক শিক্ষার্থীকে প্রতিনিয়ত এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পরের ধাপে কর্মসংস্থানের সুযোগ কতটা মিলবে কিংবা ভালো ফলাফল কি আদৌ সব বন্ধ দুয়ার খুলে দেবে—এমন সব প্রশ্নে বিদ্ধ হচ্ছেন তারা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অনাগ্রহ এবং সরকারি চাকরিতে তুমুল প্রতিযোগিতার কারণে একাডেমিক সাফল্য অর্জনের পর প্রকৃত যাত্রা আরও দুর্গম হয়ে ওঠে। এমনকি পরিবারের আনন্দ ও শিক্ষকদের প্রশংসার মাঝেও আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিতদের নেতিবাচক মন্তব্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের হতাশ করে তোলে, যা তাদের নিজের অর্জনের গুরুত্ব নিয়ে সন্দিহান করে তোলে।
ভালো ফলের গুরুত্ব যেমন রয়েছে, তেমনি উচ্চশিক্ষা ও চাকরির বাজারের বর্তমান চাহিদার সঙ্গে একাডেমিক কারিকুলামের অসংগতিও প্রকট হয়ে দেখা দিচ্ছে। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী মনে করেন, শুধু ভালো জিপিএ দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করা এখন অসম্ভব; এর জন্য প্রয়োজন কর্মমুখী শিক্ষা ও প্রায়োগিক দক্ষতা। বিশেষ করে বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি থিসিস, রিসার্চ বা প্রজেক্ট ওয়ার্ককে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হলেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে এসব সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে আইইএলটিএস-এ ভালো স্কোর এবং উচ্চ সিজিপিএ থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। অন্যদিকে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় একাডেমিক পরিবেশের ঘাটতি এবং ইন্টার্নশিপের সুযোগের অভাব চাকরির বাজারে তাদের চ্যালেঞ্জকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই বাস্তবতা থেকে উত্তরণে স্নাতক পর্যায়ে বাধ্যতামূলক থিসিস ও প্রজেক্ট ওয়ার্ক চালু করা এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিজস্ব শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
জান্নাত/সকালবেলা
|