ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
ডা. সৈয়দ এ. কে. আজাদ: চোখ চুলকানো একটি সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত বিরক্তিকর সমস্যা, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে 'ওকুলার প্রুরিটাস' নামে পরিচিত। সাধারণত কোনো অ্যালার্জেন বা উত্তেজক পদার্থের সংস্পর্শে এলে শরীরে হিস্টামিন নিঃসরণের ফলে চোখে চুলকানি, জ্বালাপোড়া ও লালভাব দেখা দেয়।
চোখ চুলকানোর পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ থাকতে পারে:
অ্যালার্জি: ধুলাবালু, পরাগরেণু, পশুর লোম বা ছত্রাক।
শুষ্ক চোখ (Dry Eye): ল্যাক্রিমাল গ্রন্থি পর্যাপ্ত পানি তৈরি করতে না পারলে চোখে অস্বস্তি ও চুলকানি হয়।
সংক্রমণ ও প্রদাহ: চোখের পাতায় সংক্রমণ বা 'ব্লেফারাইটিস' হলে এমনটি হতে পারে।
রাসায়নিক প্রভাব: মেকআপ, ধোঁয়া বা সুইমিং পুলের ক্লোরিন।
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: কিছু পেইনকিলার বা অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট সেবনে চোখ শুষ্ক হয়ে চুলকাতে পারে।
চোখ চুলকানি থেকে আরাম পেতে এবং জটিলতা এড়াতে নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন: ১. চোখ রগড়াবেন না: চুলকালে কখনোই চোখ জোরে রগড়ানো উচিত নয়। এতে কর্নিয়ার ক্ষতি হতে পারে এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। ২. ঠান্ডা সেঁক: একটি পরিষ্কার ঠান্ডা ভেজা কাপড় বা আইস প্যাক বন্ধ চোখের ওপর কিছুক্ষণ দিয়ে রাখুন। এতে চুলকানি ও ফোলাভাব দ্রুত কমে। ৩. পরিষ্কার পানি দিয়ে ধোয়া: চোখে কোনো ধুলা বা রাসায়নিক প্রবেশ করলে তৎক্ষণাৎ পরিষ্কার পানি বা জীবাণুমুক্ত স্যালাইন দিয়ে চোখ ধুয়ে নিন। ৪. কৃত্রিম অশ্রু: চোখের শুষ্কতা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শে লুব্রিকেটিং ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি অ্যালার্জেন ধুয়ে ফেলতেও সাহায্য করে। ৫. পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ: ঘর পরিষ্কার রাখুন এবং বাতাস আর্দ্র রাখতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন।
যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুলকানি না কমে এবং নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে দেরি না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন:
চোখে তীব্র ব্যথা।
দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়া।
আলোর দিকে তাকাতে অসুবিধা হওয়া।
চোখ থেকে ঘন পুঁজের মতো তরল নির্গত হওয়া।
লেখক: অধ্যাপক এবং চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ও ফ্যাকো সার্জন; সাবেক বিভাগীয় প্রধান, চক্ষুরোগ বিভাগ, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ।
জান্নাত/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ