গরমে হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায়

গরমে হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায়

বিশেষ প্রতিবেদন: গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে জনজীবন ওষ্ঠাগত। এসি বা এসির বাইরে—সবখানেই এখন হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে যাদের দীর্ঘ সময় রোদে কাজ করতে হয়, তাদের জন্য এই ঝুঁকি আরও বেশি। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ হারানোই হলো হিটস্ট্রোকের মূল কারণ। এর লক্ষণ ও প্রতিকার নিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।

হিটস্ট্রোক কী?

হিটস্ট্রোক হলো হাইপারথার্মিয়ার একটি মারাত্মক রূপ। যখন শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে ১০৪° ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায় এবং শরীর ঘামের মাধ্যমে তাপ নির্গত করতে পারে না, তখনই হিটস্ট্রোক হয়। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে।

লক্ষণসমূহ:

  • মাথা ঝিমঝিম করা ও প্রচণ্ড মাথাব্যথা।

  • শরীরের তাপমাত্রা বাড়লেও ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া।

  • ত্বক লাল ও শুষ্ক হয়ে যাওয়া।

  • শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব এবং খিঁচুনি।

  • অসংলগ্ন কথা বলা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।

আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য তাৎক্ষণিক করণীয়:

১. দ্রুত আক্রান্ত ব্যক্তিকে ছায়াযুক্ত বা ঠান্ডা স্থানে সরিয়ে নিন। ২. গায়ের অতিরিক্ত ও ভারী কাপড় খুলে দিন। ৩. শরীর ভেজা কাপড় দিয়ে বারবার মুছে দিন বা পানি ছিটিয়ে বাতাস করুন। ৪. ঘাড়, বগল ও পিঠের নিচে বরফ বা ঠান্ডা পানি ব্যবহার করুন। ৫. সচেতন থাকলে পানি, ওরস্যালাইন বা ডাবের পানি পান করান। ৬. এর পরপরই দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

সুরক্ষা পেতে জরুরি ১০টি নিয়ম:

  • পোশাক: সুতির হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরুন।

  • পাহারা: বাইরে বের হলে ছাতা, টুপি বা স্কার্ফ দিয়ে মাথা ঢেকে রাখুন।

  • পানীয়: প্রচুর পানি, বেলের শরবত ও ডাবের পানি পান করুন।

  • খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, মাংস ও ফাস্টফুড এড়িয়ে চলুন।

  • ফলমূল: তরমুজ, বাঙ্গি ও কাঁচা আমের শরবত শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।

  • জরুরি কিট: ব্যাগে পানির বোতল ও সানগ্লাস রাখুন।

  • সবজি: লাউ, শসা, ধুন্দল ও পেঁপের মতো জলীয় সবজি বেশি খান।

  • রুটিন: ভারী পরিশ্রমের কাজ ভোরে বা সূর্যাস্তের পর করুন।

  • সাবধানতা: রোদে পোড়া ত্বকে সরাসরি খুব ঠান্ডা পানি দেবেন না।

  • সচেতনতা: দীর্ঘক্ষণ রোদে কাজ করা থেকে বিরত থাকুন।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন