ডায়াবেটিস রোগীর অসুখের দিনের ব্যবস্থাপনার নির্দেশিকা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০১:২৯ অপরাহ্ণ
ডায়াবেটিস রোগীর অসুখের দিনের ব্যবস্থাপনার নির্দেশিকা

ডায়াবেটিস রোগী অসুস্থ হলে (যেমন— জ্বর, সর্দি, কাশি, বমি বা ডায়রিয়া) শরীরের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে বা কমে যেতে পারে। এই অবস্থাকে বলা হয় ডায়াবেটিক ‘সিক ডে’। এ সময় সঠিকভাবে ব্যবস্থা না নিলে পানিশূন্যতা, হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা কিটোঅ্যাসিডোসিসের মতো প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অসুস্থতার দিনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইনসুলিন ও ডায়াবেটিসের ওষুধ যথাযথভাবে চালিয়ে যাওয়া। বমি বা পাতলা পায়খানা থাকলে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধের ডোজ সমন্বয় করতে হবে। বিশেষ করে মেটফরমিন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রয়োজন হতে পারে। তবে রোগী কখনই নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করবেন না।

এ সময় প্রতি চার ঘণ্টা পরপর রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করা উচিত। যদি গ্লুকোজ ৪ মিলিমোল/লিটারের নিচে থাকে বা প্রস্রাবে কিটোন পাওয়া যায়, তবে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর পরীক্ষা করতে হবে।

পানিশূন্যতা রোধে প্রতি ঘণ্টায় ১২৫-১৫০ মিলি পানি পান করতে হবে। প্রয়োজনে ওরস্যালাইন বা শর্করা জাতীয় পানীয় দেওয়া যেতে পারে।খিচুড়ি, স্যুপ বা ফলের রসের মতো হালকা ও নরম খাবার গ্রহণ করতে হবে।

নিম্নোক্ত লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে বা হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে৬ ঘণ্টার বেশি বমি বা ডায়রিয়া চললে। রক্তে গ্লুকোজ ১৫ মিলিমোল/লিটারের বেশি হলে। প্রস্রাবে কিটোন বন্ধ না হলে।তীব্র পেটে ব্যথা, দ্রুত শ্বাস বা তন্দ্রাচ্ছন্নতা (কিটোঅ্যাসিডোসিসের লক্ষণ) দেখা দিলে। খাবার ও পানি গ্রহণে একদম অক্ষম হলে।

সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সচেতনতা অসুস্থ ডায়াবেটিস রোগীর জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক, আলোক হাসপাতাল লিমিটেড, মিরপুর-৬, ঢাকা।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন