‘কখন যুদ্ধ আর কখন কূটনীতি, তা যুক্তরাষ্ট্র ঠিক করতে পারে না’: ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো ধরনের দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসার সরাসরি কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম পরাশক্তি ইরান। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আল জাজিরাতে প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারে ঘারিবাবাদী স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, ওমানের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ কিছু বার্তা আদান-প্রদান হলেও আলোচনার শর্ত কী হবে বা তা কীভাবে এগোবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তেহরান ওয়াশিংটনকে কখনোই দেবে না।
ঘারিবাবাদী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন:
“যুক্তরাষ্ট্র যখন ইচ্ছা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত সৃষ্টি করবে আর পরিস্থিতি প্রতিকূলে গেলে কূটনীতির দোহাই দেবে—তাদের এমন দ্বিমুখী আচরণ আমরা একেবারেই মেনে নেব না। ওয়াশিংটনকে নিজের সুবিধা অনুযায়ী ‘যখন খুশি যুদ্ধ এবং যখন খুশি আলোচনায় বসার’ পুরোনো বদঅভ্যাসে কখনোই ছাড় দেওয়া উচিত হবে না।”
ইরানের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও সংঘাত থামানোর জন্য মূলত যুক্তরাষ্ট্রই আগে বার্তা পাঠিয়ে আবেদন জানিয়েছিল।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান অত্যন্ত বিনয়ের সাথে অনুরোধ জানানোর পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ট্রাম্পের এই বিতর্কিত ও একপাক্ষিক মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়েই কাজেম ঘারিবাবাদী যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা পাঠানোর বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন এবং স্পষ্ট করেন যে, বাস্তবে সংঘাত থামানোর তাগিদটি ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকেই আগে এসেছিল।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সামরিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাবে বিগত প্রায় পাঁচ মাস ধরে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই অতি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ সচল ও সুরক্ষিত রাখতে কিছু ইউরোপীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অভিযানে যোগ দিতে পারে বলে জোর গুঞ্জন চলছে।
অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় অন্তত ২০টিরও বেশি মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রাখা হয়েছে। গত ২৮ জুলাই পর্যন্ত সেন্টকমের উদ্ধারকারী দল অন্তত ১৮টি বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তার স্বার্থে বিকল্প ভিন্ন পথে পাঠিয়েছে এবং সন্দেহভাজন একাধিক জাহাজে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেছে।
|