গভীর মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে কোন ৫ অভ্যাস
লাইফস্টাইল ডেস্ক : ব্যস্ত ও আধুনিক এই তথ্যপ্রযুক্তির সমাজে মানুষের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস হলো গভীর মনোযোগ বা ফোকাস। তবে বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতিরিক্ত আসক্তি, বিনোদনের হাজারো খোরাক এবং তথ্যের অতি প্রাচুর্যের কারণে আজকাল বেশিরভাগ মানুষের মনই সারাক্ষণ বিক্ষিপ্ত হয়ে থাকে। যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আমাদের ব্যক্তিগত ও কর্মজীবনে। তৈরি হচ্ছে এক ধরনের মানসিক অস্থিরতা ও মনোযোগের তীব্র ঘাটতি।
স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকী ‘ফেমিনা’-র একটি প্রতিবেদনে চিকিৎসকেরা বলছেন, সামান্য কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে এই হারিয়ে যাওয়া মনোযোগ আবারও ফিরিয়ে আনা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে এমন ৫টি অত্যন্ত কার্যকর অভ্যাস—
রাতের ঘুমের অভাবের সাথে দিনের বেলায় মনোযোগ কমে যাওয়ার অত্যন্ত গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আপনি যদি কাজের সময়ে নিজেকে পুরোপুরি মনোযোগী ও চনমনে রাখতে চান, তবে রাতে অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা নিটোল ও গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন। পর্যাপ্ত ঘুম আপনার ক্লান্ত মস্তিষ্ক ও মনকে অন্য যেকোনো উপায়ের চেয়ে সবচেয়ে দ্রুত সতেজ করে তুলতে পারে।
আধুনিক বিশ্বে চারপাশের এত বেশি উপাদান রয়েছে যা আমাদের মনকে প্রতি মুহূর্তে অন্যমনস্ক করে তোলে। এই অস্থিরতা দূর করতে মেডিটেশন বা ধ্যান জাদুর মতো কাজ করে। নিয়মিত মাত্র কয়েক মিনিটের মেডিটেশন মনের ভেতরের সমস্ত ব্যাকুলতা দূর করে এবং যেকোনো মানুষকে তার বর্তমান মুহূর্তে স্থির হয়ে মনোনিবেশ করতে দারুণ সাহায্য করে।
আমরা এখন এমন এক ডিজিটাল বিশ্বে বাস করছি যেখানে বিজ্ঞাপনী সংস্থা ও সোশ্যাল মিডিয়াগুলো প্রতি সেকেন্ডে আমাদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছে। কাজের সময় বারবার ফোনের নোটিফিকেশন চেক করার এই অভ্যাসটি যদি আপনি নিজে থেকে প্রতিরোধ করতে না পারেন, তবে আপনার অবচেতন মন এই বিভ্রান্তিকর জগতের ভেতরেই বুঁদ হয়ে থাকবে। তাই গভীর কাজের সময় ফোন দূরে রাখা বা সাইলেন্ট করে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
আমাদের শরীরের অন্য যেকোনো মাংসপেশির মতোই মস্তিষ্ককেও শক্তিশালী এবং পুরোপুরি সুস্থ রাখতে নিয়মিত সঠিক ব্যায়ামের প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন ধরনের জটিল ধাঁধা, গণিত বা রহস্য সমাধানের মাধ্যমে মস্তিষ্কের এই কসরত করা যেতে পারে। প্রতিদিন নিয়ম করে সুডোকু, স্ক্র্যাবল, শব্দজব্দ কিংবা দাবার মতো বুদ্ধিবৃত্তিক খেলার চর্চা করলে মস্তিষ্কের সামগ্রিক কার্যকারিতা ও স্মৃতিশক্তি বহুগুণ উন্নত হয়।
নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করলে তা মানবদেহের পাশাপাশি মস্তিষ্কেও রক্ত ও অক্সিজেন সঞ্চালনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এটি মূলত মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা সচল রাখে। এছাড়াও ব্যায়ামের ফলে আমাদের শরীরে ‘ডোপামিন’ নামক একটি বিশেষ হরমোন নিঃসৃত হয়; যা মানুষকে মানসিকভাবে প্রফুল্ল ও সুখী রাখে এবং যেকোনো জটিল কাজে তাৎক্ষণিক মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
জান্নাত সকালাবেলা
|