হঠাৎ ব্লাড সুগার কমে যাওয়া: কারণ ও তাৎক্ষণিক প্রতিকার

হঠাৎ ব্লাড সুগার কমে যাওয়া: কারণ ও তাৎক্ষণিক প্রতিকার

জীবনযাপন ডেস্ক: আমাদের শরীরের ইঞ্জিন বা মস্তিষ্ক সচল থাকার প্রধান জ্বালানি হলো গ্লুকোজ। মস্তিষ্ক নিজে গ্লুকোজ জমা রাখতে পারে না বলে রক্তে এর মাত্রা হঠাৎ কমে গেলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় রক্তে সুগারের এই ঘাটতিকে বলা হয় ‘হাইপোগ্লাইসেমিয়া’। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এটি স্নায়ুর স্থায়ী ক্ষতি বা রোগীকে কোমার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

হাইপোগ্লাইসেমিয়ার প্রধান লক্ষণসমূহ

রক্তে সুগারের মাত্রা কমে গেলে শরীর কিছু সংকেত দেয়, যা চেনা অত্যন্ত জরুরি:

  • অস্বাভাবিক ঘাম হওয়া এবং হাত-পা কাঁপা।

  • বুক ধড়ফড় করা ও তীব্র অস্থিরতা বোধ হওয়া।

  • প্রচণ্ড ক্ষুধা পাওয়া এবং মাথা ঘোরা।

  • মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া বা চোখে ঝাপসা দেখা।

  • গুরুতর ক্ষেত্রে রোগী অসংলগ্ন কথা বলতে পারেন বা অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন।

সুগার কমে যাওয়ার কারণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত খাবার ও ওষুধের ভারসাম্য নষ্ট হলে এই সমস্যা দেখা দেয়:

  • ইনসুলিনের প্রভাব: ইনসুলিন নেওয়ার পর সঠিক সময়ে খাবার না খাওয়া অথবা ইনসুলিনের ভুল ডোজ গ্রহণ।

  • খাদ্যাভ্যাস: দীর্ঘ সময় না খেয়ে খালি পেটে থাকা।

  • অতিরিক্ত পরিশ্রম: সামর্থ্যের চেয়ে বেশি ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রম করা।

  • অন্যান্য: খালি পেটে মদ্যপান কিংবা লিভার ও কিডনির দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা।

তাৎক্ষণিক প্রতিকার (১৫-১৫ নিয়ম)

যদি সুগার কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়, তবে নিচের পদক্ষেপগুলো নিন: ১. দ্রুত গ্লুকোজ গ্রহণ: ৩ চা-চামচ গ্লুকোজ পাউডার পানিতে গুলে খাইয়ে দিন। গ্লুকোজ না থাকলে চিনি, মিছরি, চকলেট বা মিষ্টি ফলের রস দেওয়া যেতে পারে। ২. অপেক্ষা ও পরীক্ষা: চিনিযুক্ত খাবার খাওয়ার ১৫ মিনিট পর পুনরায় সুগার পরীক্ষা করুন। যদি মাত্রা তখনো স্বাভাবিকের নিচে থাকে, তবে আবার মিষ্টি কিছু দিন। ৩. পরবর্তী খাবার: সুগার কিছুটা স্বাভাবিক হলে রোগীকে শর্করা জাতীয় খাবার (যেমন: বিস্কুট বা মুড়ি) দিন যাতে সুগার পুনরায় কমে না যায়।

সতর্কতা: যদি রোগী অজ্ঞান হয়ে যান, তবে মুখে কোনো খাবার বা পানি দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। এতে ফুসফুসে পানি ঢুকে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। এমন অবস্থায় রোগীকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন